ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়েই নতুন মৌসুমের জন্য ম্যানেজার পরিবর্তন করেছে আবাহনী লিমিটেড।
দীর্ঘদিনের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন ম্যানেজার আবাহনীরই সাবেক ফুটবলার ও নারায়ণগঞ্জের চেনা মুখ শহীদ হোসেন স্বপন। তাছাড়া আবারও প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মারুফুল হক। কোচ-ম্যানেজার দুজনই বলেছেন, তাদের মৌখিকভাবে দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। কোনও চিঠি এখনও তারা পাননি। তবে দুজনই কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
আবাহনীর ওপর মোট তিনটি নিষেধাজ্ঞা ছিল। এর মধ্যে দুটি আগেই প্রত্যাহার করা হয়। গত রাতে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাটিও উঠে গেছে।
নিষেধাজ্ঞা উঠলেও দল গঠনে নেমে খেলোয়াড়ের সংকটে পড়েছে আবাহনী। কোচ মারুফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘ক্লাব থেকে আমার কাছে একটা খেলোয়াড় তালিকা চেয়েছে কাল রাতে। সেটা পেয়ে এখন আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছি। অন্য ক্লাবে যাদের সঙ্গে কথা বলছি, তারা বলছে সাইন করে ফেলেছে। খেলোয়াড় পেতে কষ্ট হচ্ছে।’
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মারুফুল হক সামনে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন, ‘এবার দল গঠন কঠিন হবে। কারণ, আমরা একেবারে শেষ দিকে নেমেছি। কিন্তু আবাহনী শুধু খেলার জন্যই খেলে না। সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকে ক্লাবের প্রতি। শেষ সময়ে নিষেধাজ্ঞাটা উঠেছে, এখন দেখছি খেলোয়াড়ের সংকট। তারপরও যা আছে, তা নিয়েই টিম করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’
গতবারের দল থেকেও আবাহনীর বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় চলে গেছেন। মালি থেকে আসা তারকা স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতে মোহামেডানে ফিরে গেছেন। জানা গেছে, এবার আবাহনী ছেড়ে ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা আর আলমগীর মোল্লা গেছেন বসুন্ধরা কিংসে। স্ট্রাইকার এনামুল গাজী গেছেন ঢাকা সিটি ক্লাবে।
ক্লাবের নতুন ম্যানেজার শহীদ হোসেন স্বপন আবাহনীতে ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত খেলেছেন। ১৯৯৭ সালে যান মুক্তিযোদ্ধায়। সাবেক এই মিডফিল্ডার খেলা ছাড়ার পর আবাহনীর কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। এই প্রথম কোনো দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদেও আছেন আড়াই বছর ধরে।
আবাহনীর টিম ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন এই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে দীর্ঘদিনের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপুকে বাদ দিয়ে তার সহকারী থেকে ম্যানেজার করা হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামকে। তবে এর এক বছর পর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্লাব আবার সিদ্ধান্ত বদল করে এবং রূপুকেই ম্যানেজার পদে ফিরিয়ে আনে।