ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ মুহূর্তে দলে বড়সড় সংযোজনের পথে ডার্বি কাউন্টি। মাঝমাঠের শক্তি বাড়াতে বাংলাদেশের জাতীয় দলের তারকা ও লেস্টার সিটির হামজা চৌধুরীকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা জোরদার করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে হামজার চুক্তির মেয়াদও শেষ বছরে। এছাড়া বেতনভারের বোঝা কমাতে লেস্টারও তাকে ছেড়ে দিতে আগ্রহী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্য টেলিগ্রাফের খবর অনুযায়ী, প্রাইড পার্কে হামজাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের প্রচেষ্টা আরও বাড়িয়েছে ডার্বি। ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে চুক্তিটি সম্পন্ন করতে চাইছে তারা।
গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেছিলেন হামজা। সেখানে মোট ১৯ ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি, যার মধ্যে ১৬টি ম্যাচে ছিলেন শুরুর একাদশে।
তবে লেস্টার লিগ ওয়ানে নেমে যাওয়ার পর চলতি মৌসুমে তার ভূমিকা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই শুরুর একাদশে জায়গা পাননি ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। তিন ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন তিনি।
সপ্তাহান্তে বার্টন অ্যালবিয়নের বিপক্ষে লেস্টারের হারের ম্যাচেও ৩৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন হামজা। কোচ রাসেল মার্টিনের দলের লিগ ওয়ানে শুরুটা এমনিতেই কঠিন। তার ওপর হামজার ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এমন পরিস্থিতিতেই তাকে পেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে ডার্বি কাউন্টি।
ডার্বির রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে এরই মধ্যে লুইস ট্রাভিস ও অ্যালেক্স মওয়াট রয়েছেন। তারপরও হামজার অভিজ্ঞতা আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারে। প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপ-দুই পর্যায়েই খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
শুধু অভিজ্ঞতাই নয়, ক্যারিয়ারে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্যও রয়েছে হামজার ঝুলিতে। ২০২১ সালে লেস্টারের হয়ে এফএ কাপ, ২০২১-২২ মৌসুমে এফএ কমিউনিটি শিল্ড এবং ২০২৩-২৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছেন তিনি।
তবে হামজাকে ঘিরে আলোচনায় মাঝেমধ্যে উঠে আসে মাঠের উত্তাপের ঘটনাও। ২০১৯ সালে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচে মোহাম্মদ সালাহকে ট্যাকল করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় তৎকালীন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ ক্ষুব্ধ হলেও লেস্টারের তৎকালীন কোচ ব্রেন্ডন রজার্স প্রকাশ্যে হামজার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
রজার্স তখন বলেছিলেন, হামজাকে নিয়ে প্রতিক্রিয়াটা তার কাছে ‘অতিরিক্ত’ মনে হয়েছে। সালাহ বিশ্বমানের খেলোয়াড় হলেও তাকে ট্যাকল করা যায়-এমন যুক্তিও দিয়েছিলেন তিনি।
রজার্সের মতে, হামজা এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি সীমার কাছাকাছি গিয়ে খেলেন এবং নিজের ক্যারিয়ারের জন্য লড়াই করেন। বল পুনরুদ্ধার ও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়াই তার অন্যতম বড় শক্তি।
এখন সেই আগ্রাসী ও পরিশ্রমী মিডফিল্ডারকে নতুন ঠিকানায় নিতে চায় ডার্বি কাউন্টি। লেস্টারের হয়ে নিয়মিত একাদশে জায়গা না পাওয়া হামজার জন্যও এটি হতে পারে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার বড় সুযোগ।