২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ফিফা পরিবর্তন করেছে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এএফএ-র অনুরোধে এই স্থগিতাদেশ সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞাগুলো এখন থেকে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ও কনমেবল-এর অফিসিয়াল ম্যাচগুলোতে গণনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকান দেশটির শীর্ষ ফুটবল কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা করে জানায়, ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফা-র কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠিয়েছিল, যাতে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালীন খেলোয়াড় ও অ্যাসোসিয়েশনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘এ’ শ্রেণির প্রীতি ম্যাচ এবং/অথবা অফিসিয়াল ম্যাচ—যেটি আগে আসবে, তাতে কার্যকর করা যায়।’ তারা আরও জানায়, এই অনুরোধটি অনুমোদন করা হয়েছে।
গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর মাঠের বিশৃঙ্খলার কারণে ফিফা লিয়েনদ্রো পারেদেসকে দশ ম্যাচ, নাহুয়েল মলিনাকে সাত ম্যাচ, থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচ এবং কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এএফএ জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল বজায় রাখবে। উল্লেখ্য, এসব শাস্তির মধ্যে অর্থদণ্ড এবং ঘরের মাঠে দর্শক উপস্থিতির ওপর বিধিনিষেধও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এএফএ-র বিবৃতিতে পরিশেষে বলা হয়, ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তার নিজস্ব ও তার খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষার্থে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে ফিফার আপিল কমিটি এবং চূড়ান্ত ধাপে ক্যাসে (সিএএস) যথাযথ আপিল দায়ের করা যায়।’
এএফএ-র আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাতন উরিচ গত শুক্রবার ডি-স্পোর্টস রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা মনে করি এই শাস্তিগুলো অত্যধিক এবং আমরা তা কমানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’
বিশ্বকাপ চলাকালীন কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচগুলোর জন্য ফিফা শৃঙ্খলা বিধিমালার বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী আর্জেন্টাইন সংস্থাকে ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচে তাদের দর্শক সংখ্যা ৫০ শতাংশ সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।