ফুটবলে খেলাটির নিয়ম কিন্তু একটাই। আর সেই নিয়ম নির্ধারণ ও বিশ্বজুড়ে একক মান বজায় রাখার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড তথা আইএফএবির।
মাঠে গোল বৈধ কি না, অফসাইড হয়েছে কি না, পেনাল্টি হবে কি না, গোলরক্ষক কোথায় হাত দিয়ে বল ধরতে পারবেন—এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এই সংস্থার নির্ধারিত নিয়মে।
সংস্থাটি হলো ফুটবলের খেলার আইন নির্ধারণ, সংশোধন ও ব্যাখ্যা করার দায়িত্বে থাকা একটি সংস্থা। প্রায় দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলের আইন প্রণয়নের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে তারা।
সংস্থাটির জন্ম যেভাবে
ফুটবলের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এর জন্ম। উনিশ শতকে ইংল্যান্ডে ফুটবল জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় নিয়মের মধ্যেও দেখা দিতে থাকে পার্থক্য। একই খেলা বিভিন্ন নিয়মে খেলা হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমস্যা তৈরি হওয়া ছিল অবশ্যম্ভাবী।
এই পরিস্থিতিতে ১৮৮৬ সালে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরি হয় সংস্থাটি। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—বিশ্বজুড়ে ফুটবলের নিয়মকে এক ও অভিন্ন রাখা।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর মূল দায়িত্ব হলো খেলার আইন সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন হলে সময়ের সঙ্গে তা উন্নত করা।
ফিফা কবে যুক্ত হলো?
প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর ১৯১৩ সালে ফিফা সংস্থাটিতে যোগ দেয়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতে ফিফার চারটি ভোট রয়েছে। আর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রত্যেকের রয়েছে একটি করে ভোট। অর্থাৎ মোট ভোট আটটি।
কোনো নিয়ম পরিবর্তন করতে প্রয়োজন কমপক্ষে ছয়টি ভোট। ফলে ফিফা একা কোনো নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে না, আবার চার হোম নেশনও এককভাবে সিদ্ধান্ত আটকে দিতে পারে না।
এ কারণেই আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড-এর কাঠামোকে ফুটবলের নিয়ম নির্ধারণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়।
নিয়ম বদলায় কীভাবে?
ফুটবলের আইনে পরিবর্তন চাইলেই তা সঙ্গে সঙ্গে মাঠে কার্যকর করা যায় না।
নিয়ম পরিবর্তনের জন্য মূল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড-এর বার্ষিক সাধারণ সভায়। সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি বা মার্চে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে নভেম্বর মাসে হয় প্রস্তুতিমূলক সভা। সেখানে বিভিন্ন ফুটবল কনফেডারেশন ও জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে আসা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রয়োজনে কোনো নতুন নিয়ম বা প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগের সিদ্ধান্তও নেওয়া যেতে পারে। তবে চূড়ান্তভাবে আইন পরিবর্তন করতে হবে এজিএমে।
প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সাধারণত পরবর্তী ফুটবল মৌসুমের শুরু থেকে তা কার্যকর করা হয়।