ইনফান্তিনোর পাশে আফ্রিকা, কেন এতটা আস্থা?

একদিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উঠছে পদত্যাগের দাবি, অন্যদিকে তার পাশেই দাঁড়িয়ে আফ্রিকা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কে যখন ইউরোপসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড়, তখন আফ্রিকার ফুটবল কর্মকর্তাদের অবস্থান যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের কাছে প্রশাসনিক বিরোধের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আফ্রিকার ফুটবলের উন্নয়ন। আর সেই উন্নয়নের গতিপথই ভবিষ্যতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি হবে বলে জানিয়েছেন বেনিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মার্সেলিন বোভে।

শনিবার থেকে পোল্যান্ডে শুরু হচ্ছে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ। চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক শাসনব্যবস্থা-সংক্রান্ত বিতর্কের পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বৈশ্বিক ফিফা প্রতিযোগিতা।

বিতর্কের সূত্রপাত ইনফান্তিনোর একটি প্রস্তাবকে ঘিরে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাসহ ফুটবলের বিভিন্ন অংশীজনের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে জুলাইয়ের শেষ দিকে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন সুইস এই প্রশাসক।

পরবর্তীতে প্রস্তাবটি নিয়ে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। একই সঙ্গে তিনি এর পক্ষে সাফাইও দেন। তার দাবি, বিশ্বের তুলনামূলক দরিদ্র দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোর কাছে আরও বেশি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হতে পারত এই উদ্যোগ।

২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হওয়ার জন্য লড়াই করবেন বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। এরপর থেকেই তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন ধরে রেখেছেন তিনি।

শুক্রবার পোল্যান্ডের কাতোভিৎসেতে বেনিন দলের অনুশীলনের ফাকে রয়টার্সকে বোভে বলেন, ইনফান্তিনো ঠিক ব্যক্তি কি না—সেটি বলার সময় এখন নয়; বরং গত প্রায় এক দশকে কী কাজ হয়েছে, সেটিই তারা দেখছেন।

বোভের ভাষায়, ‘আমার পক্ষে বলা ঠিক হবে না যে তিনিই (ইনফান্তিনো) সঠিক ব্যক্তি কি না। আমরা গত ১০ বছর বা তারও বেশি সময়ে কী কী করা হয়েছে, তার রেকর্ড দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো আফ্রিকায় ফুটবলের উন্নয়ন। সামনে আমরা আমাদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত সেটিকেই ভিত্তি করব।’

২০২৭ সালের নির্বাচনে বেনিন ইনফান্তিনোকেই ভোট দেবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর অবশ্য দেননি বোভে।

তার জবাব, ‘এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। তখন পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সেটাই আমরা জানি না।’

আফ্রিকার ফুটবলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলেও মনে করেন বোভে। তবে তার মতে, এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন বড় বিনিয়োগ।

একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য গিডিয়ন ফোসু।

ইনফান্তিনোর প্রতি তার সমর্থনের অন্যতম কারণ হিসেবে আফ্রিকার ফুটবলের উন্নয়নে তার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন ফোসু, ‘সত্যি বলতে, আফ্রিকার ফুটবলের উন্নয়নে ইনফান্তিনোর যে আগ্রহ, সেটি আমার কাছে প্রশংসনীয়।’

ফোসুর মতে, ইনফান্তিনোর প্রয়োজনীয় সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনার সময় সবারই উচিত বিভাজনের সীমারেখার বাইরে তাকানো, ‘যদি আফ্রিকায় নারী ফুটবলসহ পুরো ফুটবলকে উন্নত করার এমন একটি কাঠামো ও সদিচ্ছা থাকে, তাহলে আমি মনে করি সেটিকে সবার সমর্থন করা উচিত।’

এবার অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে অংশ নিচ্ছে চারটি দল—বেনিন, নাইজেরিয়া, ঘানা ও তানজানিয়া।