ফিফা এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ দল খেলবে। হঠাৎ পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে কিংস অ্যারেনায় কঠোর অনুশীলন করছেন জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন কোচ থমাস ডুলি।
শুরুতে ৯ দিনের অনুশীলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডুলি বলেছেন, ‘এ পর্যন্ত ট্রেনিং নিয়ে আমি খুবই খুশি। দিনে দু'বার করে কয়েকবার অনুশীলন করেছি। কারণ স্বাভাবিকভাবেই, আপনারা যেমনটা জানেন, সান মারিনো থেকে ফেরার পর থেকে ফুটবলারদের বেশিরভাগই কিছু করেনি।’
এরপর কোচ অনুশীলন নিয়ে বললেন, ‘প্রায় দুই মাসের মতো সময় কেটে গেছে। আর দুই মাস কিছু না করার পর হুট করে ট্রেনিং শুরু করা খুবই কঠিন। তাই আমি আনন্দিত যে আমরা জাতীয় দলকে নিয়ে আগেই শুরু করতে পেরেছি, কারণ বাংলাদেশে তখনো লিগ শুরু হয়নি। আর লিগ শুরুর একটি তারিখ নির্ধারিত ছিল, যার ফলে লিগ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে দিনে একবার করে খেলোয়াড়দের ট্রেনিং শুরু হতো। সেটি কিন্তু খুবই বিপজ্জনক হতো। মানে, আপনি যদি বড় দেশগুলোর দিকে তাকান, তারা ছয় সপ্তাহের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি পায়; যার প্রথম সপ্তাহে দিনে তিনটি, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে দিনে দুটি এবং তার পরে সপ্তাহে অন্তত দুই বা তিন দিন করে দিনে দুটি করে সেশন থাকে। তারপরেও তারা বুন্দেসলিগা বা প্রিমিয়ার লিগ শুরু করার জন্য শতভাগ ফিট থাকে না।’
আসিয়ান কাপ নিয়ে আপনার লক্ষ্য কী? এমন প্রশ্নের জবাবে থমাস ডুলির উত্তর, ‘আমরা যে দলগুলোর বিপক্ষে খেলবো, তারা র্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে কতটা এগিয়ে? সিঙ্গাপুর ৫০ ধাপ এগিয়ে, মালয়েশিয়া ৬০ ধাপ এগিয়ে, আর ইন্দোনেশিয়া তো আছেই... নিশ্চিতভাবেই এটি অত্যন্ত কঠিন। আমি আমার খেলোয়াড়দের বলি, যখন এমন কোনো দলের বিপক্ষে খেলি যারা র্যাংকিংয়ে আমাদের পেছনে আছে, আমি হারতে চাই না। আমাদের এমনভাবে মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা আমাদের বিপক্ষে গোল করতে না পারে। কিন্তু আমাদের পেছনে থাকা দলের কাছে হেরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়াও একই কথা ভাবছে। তাই আমাদের জন্য এটি খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে। তবে আপনারা সবাই তো বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলা দেখতে চান। তাই আসিয়ানে খেলতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। এটি আমাদের জন্য একটি দারুণ প্রতিযোগিতা। আমাদের ইতিবাচক থেকে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা নিংড়ে নিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে আমরাও এই আঞ্চলিক ফুটবলের যোগ্য।’
ট্রায়ালে কিছু নতুন খেলোয়াড় যোগ দিয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স কেমন এবং কতটা সন্তুষ্ট? এমন প্রশ্নে ডুলির উত্তর, ‘বর্তমানে থাকা ৫ জন গোলরক্ষকই প্রায় সমমানের। আর এখানেই চূড়ান্ত ৩-৪ জন বাছাই করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের জাকার্তা যাওয়ার আগে আরও কিছুদিন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা খেলোয়াড়দের পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি যে, নিজেদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে উন্নতি করে দেখাক যে তারা মূল দলে থাকার যোগ্য।’
ট্রায়াল এবং অনুশীলন সেশন—এই দুটি বিষয় থেকে কেউ কি আপনাকে আলাদাভাবে মুগ্ধ করেছে? ডুলি বলেছেন, ‘বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এবার চমৎকার পারফর্ম করছে, যা আগেরবার দেখিনি। কারণ প্রথমবার এসে মাত্র অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ৪০ জন নতুন মুখ দেখে দল বাছাই করা কঠিন ছিল। কখনো খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিটনেস থাকে না বা হালকা ইনজুরি থাকে। যারা যুব দল থেকে বা নতুন করে ফিরে এসেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বেশ ভালো করছে। ফুটবল মানেই পারফরম্যান্স, কে কেন দলে আছে তা কোচিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হয়। আমরা সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে ম্যাচ জিততে চাই, যাতে সমর্থকরা খুশি হতে পারে।’
আসিয়ান কাপের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু হামজা চৌধুরীর মতো যারা এখন উপস্থিত নেই, তাদের জন্য কী পরিকল্পনা? ডুলি বলেছেন, ‘হামজার মতো পেশাদার খেলোয়াড়রা জানে এই পর্যায়ের ফুটবলে তাদের ভূমিকা কী। তাদের নতুন করে কিছু শেখাতে হয় না। ও আসার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের সেরাটা দেবে, কারণ সে একজন লিডার। এছাড়া শমিত, তারিক, জায়ানরাও মানসিকভাবে ও টেকনিক্যালি বেশ পরিপক্ক। খেলোয়াড়রা আরও আগে আসলে নিশ্চিতভাবেই ভালো হতো, কিন্তু ক্লাবের বাধ্যবাধকতার কারণে তা সম্ভব হয় না।’