ঐতিহ্যবাহী আবাহনী লিমিটেডে নতুন করে প্রাণ ফিরে এসেছে। রবিবার ধানমন্ডির ক্লাব তাঁবুতে দেখা গেলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। দেশের নতুন ফুটবল মৌসুমের প্রস্তুতি শুরুর মুহূর্তটি উদযাপন করতে সেখানে হাজির হয়েছিলেন ফুটবল, হকি ও ক্রিকেটের সাবেক তারকা, ক্লাবের কর্মকর্তা এবং এই মৌসুমের ফুটবল দলের সদস্যরা।
২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের পর থেকেই আবাহনী এক কঠিন সময় পার করছে। সবশেষ ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়, যা দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগে তাদের অংশগ্রহণকেই চরম হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল।
যদিও ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে, তবে এই বিলম্ব তাদের দল গঠনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাদের পছন্দের অনেক খেলোয়াড় ততক্ষণে অন্য ক্লাবে যুক্ত হয়ে যান। ফলে ৬ বারের পেশাদার লিগ বিজয়ী আবাহনীকে এমন একটি দল গঠন করতে হয়েছে, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে থাকা সেই তারকাখচিত রূপ কিছুটা অনুপস্থিত।
বর্তমান প্রজন্মকে উৎসাহ দিতে ক্লাবে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির তারকারা। শেখ মোহাম্মদ আসলাম, শেখ আশরাফ আলী, গোলাম গাউস, ইকবাল হোসে, কাজী আনোয়ার, আসাদুজ্জামান মিশা, মাহবুব হারুন, মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ অনেক সাবেক আবাহনী তারকারা।
আবাহনীর অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড আসলাম মনে করিয়ে দেন কীভাবে আগের প্রজন্মগুলোও কঠিন সময় পার করে ক্লাবকে পুনরায় শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছিল।
খেলোয়াড়দের উদ্দেশে আসলাম বলেন, “আবাহনী আগেও এমন একটি সংকটময় রূপান্তর সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। আমরা খেলোয়াড়রা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আবাহনীকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলাম। আবাহনীর জার্সি গায়ে চাপিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আপনারাও ক্লাবকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবেন— এটাই আমাদের প্রত্যাশা। যেকোনও সংকটে আমরা আপনাদের পাশে আছি।”
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য আশরাফও খেলোয়াড়দের আবাহনীর প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বটি অনুধাবন করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “মাঠে নিজেদের সর্বাত্মক প্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলো এবং প্রতিটি প্রতিপক্ষকে শত্রুর মতো বিবেচনা করো। কঠোর অনুশীলন করো, আর অফিশিয়াল সেশনের বাইরেও নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করো।”
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কোচ মারুফুল হকের অধীনে আবাহনী গত দুই মৌসুমেই রানার্স-আপ হয়ে শেষ করেছিল। এবারও মারুফুল একটি অপেক্ষাকৃত তরুণ ও মিশ্র দল নিয়ে মূল ট্রফিগুলোর জন্য লড়াই করার চেষ্টা করবেন। বর্তমান দলে রয়েছেন চার জন জাতীয় দলের সিনিয়র ফুটবলার, অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের চার জন, অনূর্ধ্ব-১৭ দলের দুই জন, চার জন নাইজেরিয়ান ফুটবলার এবং গত মৌসুমের কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়।
মারুফুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আবাহনীর লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই লক্ষ্যে দল খেলবে।”
সদ্য নিযুক্ত ম্যানেজার শহীদ হোসেন স্বপন বিশ্বাস করেন, ক্লাবটি তার সংকট কাটিয়ে ওঠার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, “আবাহনী আগেও এমন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এবং তা কাটিয়ে উঠেছে। আমার মনে হয় এবারও আমরা সংকটের মেঘ কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর খুব কাছাকাছি।”
গত দুই মৌসুমের কঠিন সময়েও আবাহনীর সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান রবিবারের এই মিলনমেলায় বেশ অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। ইয়াসিন বলেন, “ক্লাব তাঁবুতে সাবেক আবাহনী খেলোয়াড়দের এমন উপস্থিতি সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক। তাদের এই উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এমন এক পরিবেশ তৈরি করবে যা ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।”