চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার নতুন অভিযান, শুরুতেই ফেইনুর্ড পরীক্ষা

ঘরোয়া ফুটবলে একের পর এক জয়, গোলের বন্যা। এবার বার্সেলোনার চোখ ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। বুধবার রাত পৌনে ১১টায় ঘরের মাঠে ডাচ জায়ান্ট ফেইনুর্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের লিগ পর্ব শুরু করবে হান্সি ফ্লিকের দল। ২০১৫ সালের পর আর ইউরোপিয়ান কাপ জেতা হয়নি কাতালান ক্লাবটির। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে তারা।

বার্সেলোনা এবার লা লিগায় দুর্দান্ত শুরু করেছে। এলচে, অ্যাথলেটিক বিলবাও, রায়ো ভায়েকানো ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে টানা চার ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। এই চার ম্যাচে ১৭ গোল করেছে বার্সা, যা তাদের লিগের শীর্ষস্থানেও বসিয়েছে।

ঘরোয়া সাফল্য বার্সেলোনার কাছে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। তবে চলতি মৌসুমে তাদের মূল লক্ষ্য যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি, সেটি বলাই যায়।

বার্সা ২০১৫ সালে সর্বশেষ ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল। সেটি ছিল এই প্রতিযোগিতায় তাদের পঞ্চম শিরোপা। গত মৌসুমে অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালেই অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।

এর আগের মৌসুমে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও সেমিফাইনালে উঠেছিল কাতালানরা। তবে রক্ষণভাগের দুর্বলতার কারণে শেষ পর্যন্ত আরেকবার শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও থেমে যেতে হয় তাদের।

এবারও তাই প্রশ্ন থাকছে বার্সেলোনার রক্ষণভাগ কি ইউরোপ সেরা হওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী? তবে আক্রমণভাগ নিয়ে তাদের খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। মাঠের ফাইনাল থার্ডে তাদের খেলোয়াড়দের মান যে দুর্দান্ত, তা এরই মধ্যে প্রমাণিত।

ফেইনুর্ডের বিপক্ষে বার্সেলোনার আগের সাক্ষাৎ হয়েছে মাত্র দুবার। দুটিই ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল লা লিগার দলটি।

বার্সেলোনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এবার যে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, তা ভালোভাবেই জানে ফেইনুর্ড। তবে মৌসুমের শুরুটা বেশ ভালো হয়েছে ডাচ ক্লাবটির। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত তারা, যার মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে।

গত মৌসুমে এরেদিভিসিতে দ্বিতীয় হওয়া ফেইনুর্ড এই ম্যাচে নামবে নাইমেগেনকে ৩-১ গোলে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে। শুধু প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ নয়, মার্চের শুরু থেকে সব প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়েও অপরাজিত রয়েছে তারা।

১৯৭০ সালে ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্রবার ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল ফেইনুর্ড। ফাইনালে সেল্টিককে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল তারা। ওই আসরে ওভে কিন্ডভাল ও রুদ গেলস মিলে করেছিলেন ১৩ গোল। তবে সাম্প্রতিক ইউরোপীয় অভিযানে তাদের সাফল্য তেমন উজ্জ্বল নয়। ২০২৫-২৬ ইউরোপা লিগের লিগ পর্ব পেরোতে পারেনি। একই মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তৃতীয় বাছাই পর্ব থেকেও বিদায় নিয়েছিল তারা।

সর্বশেষ ২০২৪-২৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে খেলেছিল ফেইনুর্ড। শেষ ষোলো পর্যন্ত উঠলেও সেখানে ইন্টার মিলানের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় তারা। এবার কেমন করে সেটাই দেখার।