ফুটবল দুনিয়ায় অক্টোবর এলেই শুরু হয় তর্ক-বিতর্কের ঝড়। কে হবেন বিশ্বের সেরা? কার হাতে উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর? প্রতি বছরই এই পুরস্কারকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ, বিতর্ক থাকে তুঙ্গে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।
মঙ্গলবার ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগেরও সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ পেয়েছে একই দিন। তার আগে জেনে নেওয়া যাক এই পুরস্কারের আদ্যোপান্ত।
ব্যালন ডি’অর কী?
ফরাসি ভাষায় ব্যালন ডি’অর অর্থ ‘গোল্ডেন বল’ বা ‘সোনার বল’। বিশ্বের সেরা পুরুষ ও নারী ফুটবলারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এই পুরস্কারের মাধ্যমে। আগের মৌসুমে যাদের পারফরম্যান্স সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিল, তাদের মধ্য থেকেই বেছে নেওয়া হয় বিজয়ী।
ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ডিয়েগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদানসহ অসংখ্য তারকা পেয়েছেন এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।
ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল ১৯৫৬ সালে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর চালু করে। এরপর প্রতি বছরই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুধু ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পুরস্কারটি দেওয়া হয়নি।
কীভাবে নির্ধারণ করা হয় ব্যালন ডি’অর বিজয়ী?
ফ্রান্স ফুটবলের মাধ্যমে নির্বাচিত আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের একটি প্যানেল পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের জন্য ৩০ জনের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে। বিশ্বের সেরা গোলকিপারের জন্য তৈরি করা হয় ইয়াশিন ট্রফির সংক্ষিপ্ত তালিকাও।
২০২২ সালে পুরস্কারের ভোটিং প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়। পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের জন্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। আর নারী ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে ভোট দেন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৫০ দেশের একজন করে সাংবাদিক।
ভোটাররা চূড়ান্ত তালিকা থেকে খেলোয়াড় বেছে তাদের পছন্দের ক্রমানুসারে সাজান। প্রতিটি অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট নির্ধারিত থাকে। সব ভোট গণনা শেষে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়ের হাতেই ওঠে ব্যালন ডি’অর।
ভোটের ক্ষেত্রে কী বিবেচনা করা হয়?
একসময় ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯৫ সালে ইউরোপে খেলা অ-ইউরোপীয় ফুটবলারদেরও পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় আনা শুরু হয়।
এরপর ২০০৭ সালে আরও বড় পরিবর্তন আসে। বিশ্বের যেকোনও দেশের খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অরের জন্য যোগ্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পান।
২০২২ সালে ভোটিংয়ের সময়সীমা ও ভোটার কাঠামোর পাশাপাশি মূল্যায়নের মানদণ্ডেও পরিবর্তন আনা হয়। খেলোয়াড়ের পুরো ক্যারিয়ারের পারফরম্যান্স আর বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এর বদলে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়-
১. আগের মৌসুমে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স
২. আগের মৌসুমে দলের সাফল্য
৩. মৌসুমজুড়ে খেলোয়াড়ের আচরণ ও ফেয়ার প্লে
ফুটবলারদের কাছে ব্যালন ডি’অর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ব্যালন ডি’অরকে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফিফার ‘দ্য বেস্ট’-এর মতো আরও কিছু পুরস্কার থাকলেও বিশ্ব ফুটবলে ব্যালন ডি’অরের পরিচিতি ও আকর্ষণ এখনও সবচেয়ে বেশি।
বিষয়টি অনেকটা চলচ্চিত্রের অস্কারের মতো। গোল্ডেন গ্লোব বা এসএজি অ্যাওয়ার্ড জিতলেও একজন অভিনেতার কাছে সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি অস্কার জয়। ফুটবলেও তেমনই। অনেক পুরস্কার থাকলেও ব্যালন ডি’অরকে ছাপিয়ে যাওয়ার মতো ব্যক্তিগত স্বীকৃতি খুব কমই আছে।