ডার্বির আগে দুশ্চিন্তায় মরিনহো

গোল হচ্ছে, সুযোগ তৈরি হচ্ছে; আক্রমণে গতিও আছে। কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ? সেখানেই যেন বড় ঘাটতি। লা লিগায় অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ডার্বির আগে রিয়ালের এই দুর্বলতাই সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে কোচ হোসে মরিনহোকে।

রবিবারের ডার্বিকে মরিনহোর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের ফুটবলকে মরিনহো নিজেই বলেছেন উন্মত্ত গতির। কিন্তু প্রতিপক্ষকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেওয়ার মতো নিয়ন্ত্রণ তার দল এখনও দেখাতে পারেনি।

৬ ম্যাচ শেষে পাঁচ জয় ও এক হারে রিয়ালের পয়েন্ট ১৫। অপরাজিত বার্সেলোনার চেয়ে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে টেবিলের দুইয়ে রয়েছে তারা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেতিকো।

তার ওপর শেষ দুই ম্যাচে রিয়ালকে জিততে হয়েছে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায়। এস্পানিওল ও এলচের বিপক্ষে বদলি স্ট্রাইকার কার্লোস এসপির শেষ মুহূর্তের গোলেই জয় নিশ্চিত করতে হয়েছে তাদের। মরিনহো মনে করেন, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রবণতাই রিয়ালের সবচেয়ে বড় সমস্যা।

তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে সমস্যাটা স্পষ্ট। কেন এমন হচ্ছে, সেটা বোঝা কঠিন। তবে এটা সহজেই বোঝা যায় কিছু ম্যাচ এমন মনে হয় যেন শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয় না।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘এমন ম্যাচও আছে যেখানে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার জন্য আমাদের তিন, চার, পাঁচটি সুযোগ আসে, কিন্তু আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারি না। এরপর মনে হয় সবকিছু সহজ ছিল, কারণ ম্যাচটাকে সহজই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ আমরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি।’

ডার্বিতে এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন অ্যাতলেতিকোর অভিজ্ঞ কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। তাই শুধু রবিবারের ম্যাচ নয়, পুরো মৌসুমের জন্যই রক্ষণাত্মক এই সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন মরিনহো। তার কথায়, ‘শুধু রবিবারের ম্যাচের জন্য নয়, প্রতিটি ম্যাচের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই আমার দল গোল করুক। কিন্তু একই সঙ্গে চাই আমরা যেন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করি।’

তিনি এই বিষয়ে আরও বলেছেন, ‘আমি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ উপহার হিসেবে প্রতিপক্ষকে দিয়ে দিতে চাই না। বিষয়টি শুধু গোলের নয়, বিষয়টি হলো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া।’

মঙ্গলবার এলচের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকা বের্নার্দো সিলভা অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে একাদশে ফিরতে পারেন। তার উপস্থিতি রিয়ালকে মাঝমাঠে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে পারে। যদিও বিপুল অর্থ খরচ করে গ্রীষ্মের দলবদলে শক্তি বাড়ানোর পরও রিয়ালের বর্তমান স্কোয়াডকে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের জন্য আদর্শ মনে করছেন না মরিনহো, ‘আমরা খুব দ্রুতগতির একটা দল। বল ফিরে পেলেই দ্রুত আক্রমণে চলে যাই।’

রিয়ালের আক্রমণভাগের মূল শক্তি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহ্যাম। এই ত্রয়ীর উপস্থিতিই রিয়ালের খেলায় স্বাভাবিকভাবেই গতি বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার ফলে পেছনে ফাঁকা জায়গাও তৈরি হচ্ছে।

ডার্বিতে ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে বাড়তি উত্তেজনাও থাকতে পারে। অ্যাতলেতিকো সমর্থকদের কাছ থেকে প্রায়ই দুয়ো শুনতে হয় তাকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সেউতার মানুষের সমর্থনে একটি টি-শার্ট পুরোপুরি না পরার বিতর্ক। ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে এমবাপ্পে ও ইব্রাহিমা কোনাতেও ওই টি-শার্ট পুরোপুরি পরেননি। শার্টে লেখা ছিল, ‘আমরা সবাই সেউতান।’ উত্তর আফ্রিকায় মরক্কোর সীমান্তসংলগ্ন স্পেনের অঞ্চল সেউতা সাম্প্রতিক অভিবাসন সংকটের কারণে আলোচনায় এসেছে।

এদিকে, গোলখরার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নিজের দলের সমর্থকদের কাছ থেকেও ভিনিসিয়ুস দুয়ো শুনেছেন। এলচের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচেও তিনটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি।

মরিনহো এখন সেই পুরোনো ভিনিসিয়ুসকে ফিরে পেতে চান, যিনি ম্যাচ শেষ করে দিতে পারেন এবং রিয়ালকে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে সাহায্য করেছিলেন। তাই ডার্বিকেই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর আদর্শ মঞ্চ মনে করছেন তিনি। এছাড়া দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এমবাপ্পের জন্যও ডার্বি হতে পারে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে আরও ভোট কুড়ানোর সুযোগ। পাশাপাশি বার্সেলোনার ওপর চাপ ধরে রাখার সুযোগও।

২০২৪ সালে এমবাপ্পে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ট্রফি জিততে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। টানা দুই মৌসুম লা লিগা জেতা বার্সেলোনাকে থামাতে হলে আর খুব বেশি পয়েন্ট হারানোর সুযোগ নেই রিয়ালের। বিশেষ করে সিমিওনের অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারালে শিরোপার দৌড়ে তার প্রভাব পড়তে পারে। মরিনহোর প্রথম মেয়াদে সিমিওনের সঙ্গে চারবার মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল। তিনবার জিতেছিলেন মরিনহো। 

রবিবার রাত সোয়া ৮টায় মেট্রোপলিতানোতে যদি রিয়াল আগে গোল পায়, তাহলে মরিনহোর চাওয়া একটাই- দল যেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যেন অ্যাতলেতিকোর হাতে তুলে না দেয়!