‘ইয়ামাল-নেইমারও আমার মতো চিকন ছিল’

ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ দলে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছেন মিনহাজুল করিম স্বাধীন। জাতীয় দলের চূড়ান্ত দলে ঠাঁই পাওয়ার পথে গত বছর আর্জেন্টিনার ডি কামবাসেরেস ক্লাবে তিন মাসের অনুশীলন ও খেলার অভিজ্ঞতা বেশ কাজে দিয়েছে এই তরুণ ফরোয়ার্ডের।

২৩ বছর বয়সী স্বাধীন আর্জেন্টিনায় ছিলেন মাত্র তিন মাস। জাতীয় দল ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সাবেক আর্জেন্টাইন ট্রেইনার আরিয়েল কোলম্যানের মাধ্যমে যশোর থেকে উঠে আসা এই তরুণের সামনে খুলে যায় আর্জেন্টিনার দরজা। দেশটির বিভাগীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় স্তরের লিগে খেললেও সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কঠিন বলে জানিয়েছেন স্বাধীন।

আর্জেন্টিনায় কাটানো সময়টায় ফিনিশিং দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফিটনেসেও বড় উন্নতি করেছেন তিনি। ঢাকার মাঠে যার সুফলও পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

স্বাধীন বলেন, ‘ওদের ওখানে ফিটনেসের ওপর খুব জোর দেওয়া হয়। অনুশীলনের সঙ্গে জিম বাধ্যতামূলক। ফিটনেসের ব্যাপারে তারা খুব যত্নশীল। ফলে আমার ফিটনেসে অনেক উন্নতি হয়েছে। গোল করার দক্ষতার পাশাপাশি নিখুঁত ক্রস করার প্রবণতাও বেড়েছে আমার। যেটা ঢাকায় কাজে লাগিয়েছি।’

জাতীয় দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পেতে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে স্বাধীনকে। শেষ পর্যন্ত কোচ থমাস ডুলির আস্থায় লাল-সবুজ দলে জায়গা করে নিয়েছেন। এখন তার অপেক্ষা জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের।

স্বাধীন বলেন, ‘সবারই তো লক্ষ্য থাকে জাতীয় দলের হয়ে খেলা। আমি সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। এখন আশা, সেরা ১১ জনের মধ্যে থাকা। এর জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো। এছাড়া প্রিমিয়ার লিগে খেলি কিংবা আর্জেন্টিনায় যাই, যেখানেই খেলি না কেন ভালো ফুটবল খেলতে চাই। নিজেকে প্রমাণ করতে চাই।’

চূড়ান্ত দলে ডাক পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনকে নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তার ফিটনেস ও শারীরিক গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার আগে স্বাধীন বলেন, ‘সমর্থকরা এখন নেতিবাচক কথা বলছে। আবার আমি যদি খেলার সুযোগ পাই এবং সেখানে ভালো করি, তারাই আবার মাথায় তুলে নাচবে। এটাকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। এখন আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ মাঠের অনুশীলনে।’

নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে স্বাধীন আরও বলেন, ‘আরেকটা বিষয় হলো, লামিনে ইয়ামাল ও নেইমারও শুরুর দিকে আমার মতো চিকন ছিল। এখন জাতীয় দলে এসেছি আমি। আমার ওজন আরও বাড়াতে হবে। কোচিং স্টাফদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি সামনে আরও ভালো করতে পারবো।’