আইরিশ ক্রীড়াবিদদের খোলা চিঠি, ‘ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করুন’

ইসরায়েলের বিপক্ষে আসন্ন নেশনস লিগের দুই ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়ে আয়ারল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি খোলা চিঠি দিয়েছেন দেশটির ১৬০- এর বেশি ক্রীড়াবিদ। ‘আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন গ্রুপ’-এর উদ্যোগে দেওয়া ওই চিঠিতে ম্যাচ দুটি না খেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর হাঙ্গেরিতে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলার কথা রয়েছে। ফিরতি ম্যাচটি হবে ৪ অক্টোবর সার্বিয়ায়।

খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ে আসার আগেই ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই), উয়েফা এবং আয়ারল্যান্ড সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। তবে এখনও ‘খেলার মাধ্যমে ঐক্যের শক্তি দেখানোর’ সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অলিম্পিয়ান সিয়ারি ম্যাজিন, রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার লুইস কুইন এবং সাবেক আইরিশ রাগবি ফ্লাই-হাফ টনি ওয়ার্ড। দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়ারল্যান্ডের একটি রাগবি সফর বয়কট করেছিলেন ওয়ার্ড।

এছাড়া বক্সার টাইরন ম্যাককেনা ও এরিক ডোনোভানও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। ১৬০-এর বেশি স্বাক্ষরকারীর তালিকায় গ্যালিক অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের (জিএএ) পাদ্রেইগ ও’হোরা, জো ব্রলি, কম ও’রুর্ক, মাইকেল ডারাগ ম্যাকাউলি, ফিলি ম্যাকমাহন, ভ্যালেরি মুলকাহি ও রেনা বাকলির মতো ক্রীড়াবিদরাও রয়েছেন।

এছাড়া প্যারা-অ্যাথলেট অ্যালান ডিনিন এবং আলটিমেট ফ্রিসবির স্টিফেন জোন্সও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলের বিপক্ষে নিজেদের ম্যাচ বয়কট করেছিলেন তারা দুজন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং এই মুহূর্তে সঠিক কাজটি করার সুযোগ আপনাদের রয়েছে।’

আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টি যে বিশেষ তা উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তারা এমন একটি আয়ারল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান, যে দেশ তার ঔপনিবেশিকতাবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিরোধের শিকড় মনে রাখে এবং যেখানে আইরিশ ক্রীড়াঙ্গনেরও বড় ভূমিকা ছিল।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই মুহূর্ত কেবল খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর তাৎপর্য আরও গভীর। একই সঙ্গে স্বাক্ষরকারীদের দাবি, এই পরিস্থিতিও এক অর্থে খেলাধুলারই অংশ।

চিঠির শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘ম্যাচটি না খেলাই হবে সবচেয়ে ক্রীড়াসুলভ কাজ। আপনাদের নেতৃত্ব ও সাহসের মাধ্যমে খেলাধুলার ঐক্যের শক্তি দেখানো সম্ভব। একই সঙ্গে আমাদের সবাইকে যুক্ত করা অভিন্ন মূল্যবোধের কথা মনে করিয়ে দেওয়া এবং ম্যাচের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বড় প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।’