মালয়েশিয়ার কাছে তিন গোল, ‘অসহায়’ ডুলি

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ব্যবধানের হারের কথা হয়তো ভাবেননি কেউই। কিন্তু মাঠের ফুটবলে সেই ব্যবধানই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো দুই দলের পার্থক্য। ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এমন হারের পর নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন লাল-সবুজ দলের কোচ থমাস ডুলি। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের সামর্থ্যের কাছেও অসহায়ত্বের কথা উঠে এসেছে জার্মান-আমেরিকান কোচের কণ্ঠে।

ম্যাচ শেষে ডুলি বলেছেন, ‘অবশ্যই, এটা আমাদের স্বপ্নের ফলাফল ছিল না। আজ সকালে আমাদের শুরুটা ভালো ছিল না, আর সেই বিষয়টি ম্যাচেও প্রভাব ফেলেছে। শুরুতে আমাদের খেলার গতি কিছুটা ধীর ছিল। আমাদের দিক থেকে পাসিং এবং পাসের নির্ভুলতায় আমরা অনেক ভুল করেছি।’

নিজেদের অসহায়ত্বও স্বীকার করেছেন ৬৫ বছর বয়সী কোচ। তার ভাষায়, ‘আমি যেমন বলেছি, আমরা তাদের আমাদের গোলের সামনে নিজেদের মতো করে খেলার কিছুটা সুযোগ দিয়েছি। আমাদের চেষ্টা ছিল ম্যাচটাকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রিত রাখা এবং তাদের বেশি সুযোগ না দেওয়া। তারা কিছু সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মান আপনি দেখতে পেয়েছেন। এটা সত্যিই ভিন্ন একটা স্তর।’

মালয়েশিয়ার ফরোয়ার্ডদের প্রশংসা করে ডুলি বলেন, ‘তাদের তিন জন অসাধারণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় আছে। তাদের গতি আছে, তারা খুব দ্রুত এবং তাদের টেকনিক অসাধারণ। তারা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তারা ভেতরে ঢুকে খেলতে পারে, বাঁ পা ও ডান পা, দুই পায়েই খেলতে পারে।’

তবে এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রক্ষণভাগের কাজটাও সহজ ছিল না বলে মনে করেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘কোনও বক্স-প্লেয়ার ধরনের ফরোয়ার্ডকে কখনও একা ছেড়ে দেওয়া যায় না। তাকে একা ছেড়ে দিলে সে অবশ্যই গোল করবে। তাই শেষ পর্যন্ত আমি মনে করি আমাদের রক্ষণভাগ ভালো কাজ করেছে। অবশ্যই আমাকে আবার ম্যাচটি দেখতে হবে, কিন্তু এ ধরনের খেলোয়াড়দের আপনি এক সেকেন্ডের জন্যও একা ছেড়ে দিলে তারা আপনার দলের বড় ক্ষতি করতে পারে। আজ সেটাই হয়েছে।’

ম্যাচের শেষদিকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ক্লান্তিও চোখে পড়েছে বলে মনে করেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘আমরা পেছন থেকে বল নিয়ে খেলা তৈরি করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ দিকে দেখা গেছে খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাদের পেশিতে টান ধরছিল এবং তারা আরও বেশি ভুল করছিল। আর ফুটবলে এটাই বাস্তবতা। আজকের ম্যাচে তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা পরিষ্কার দেখা গেছে।’

দুই দলের প্রস্তুতি ও ম্যাচ খেলার অভ্যাসের পার্থক্যটাও তুলে ধরেছেন ডুলি। বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড় নিয়মিত ম্যাচে না থাকায় এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলাটা কঠিন হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ডুলির ব্যাখ্যা, ‘বাংলাদেশের কিছু খেলোয়াড় সান মারিনোর বিপক্ষে শেষ ম্যাচের পর থেকে আর কোনও ম্যাচ খেলেনি বা নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই, আপনি যদি কোনও লিগে নিয়মিত না খেলেন এবং এরপর এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলতে নামেন, যার খেলোয়াড়রা নিজেদের লিগে নিয়মিত খেলছে এবং জাতীয় দলের হয়েও নিয়মিত মাঠে নামছে, তাহলে কাজটা খুব কঠিন।’

তবে বড় ব্যবধানে হারের পরও পুরো দলকে নিয়ে হতাশ নন ডুলি। বরং এই ম্যাচ থেকেই শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি, ‘সব মিলিয়ে আমি ম্যাচটি নিয়ে মোটামুটি সন্তুষ্ট। আমরা এখানে শিখতে এসেছি।’