র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান ছিল ৪৫ ধাপ। মাঠের লড়াইয়েও সেই পার্থক্য স্পষ্ট করে তুলেছে মালয়েশিয়া। ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে তারা। প্রথমার্ধে দুই গোল করে বিরতিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে মালয়েশিয়া। দুই গোলই করেছেন আরিফ আয়মান।
শুক্রবার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো (জিবিকে) স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণে ওঠে মালয়েশিয়া। তাদের গতিময় আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের তারিক কাজী, শাকিল আহাদ তপুদের রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে।
মালয়েশিা ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথম সুযোগ তৈরি করে। বক্সের বাইরে থেকে ফয়সাল হালিমের ডান পায়ের জোরালো শট গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ হাত উঁচিয়ে পোস্টের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন।
১৮ মিনিটে অবশ্য আর আটকে রাখা যায়নি মালয়েশিয়াকে। লাইনা নুয়ারের লং পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান আরিফ আয়মান। কোনাকুনি শটে শ্রাবণের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। শাকিল আহাদ তপু তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও গোল ঠেকাতে পারেননি। এটি মালয়েশিয়ার হয়ে আরিফ আয়মানের ক্যারিয়ারের নবম গোল।
গোল হজমের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে মালয়েশিয়া। ২৬ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড বার্গসনের জোরালো শট অবশ্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৩৩ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে রাকিব হোসেন ব্যাকহিলে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার প্রচেষ্টা পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে চলে যায়।
এর চার মিনিট পর নিজেদের ভুলেই আবারও বিপদ ডেকে আনে বাংলাদেশ। শাকিল আহাদ তপুর ভুলে বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে যান আরিফ আয়মান। সময় নিয়ে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষক শ্রাবণকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি মালয়েশিয়াকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।
বিরতির আগে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ, কিন্তু মালয়েশিয়ার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শেষ দিকে দুই দলই আরও কিছু আক্রমণ করলেও আর গোল হয়নি। ফলে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় থমাস ডুলির দলকে।
এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে ১৯ বছর বয়সী ইংলিশ-বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড ফারহান আলী ওয়াহিদের।
বাংলাদেশের একাদশ:
মেহেদী হাসান শ্রাবণ, সাদ উদ্দিন, তারিক কাজী, জায়ান আহমেদ, শাকিল আহাদ তপু, হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, সোহেল রানা সিনিয়র, ফারহান আলী ওয়াহিদ, রাকিব হোসেন ও ফাহমিদুল ইসলাম।