ফিফা আসিয়ান কাপে প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে তিন গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। জাকার্তার মাঠে লাল সবুজ দল আশানুরূপ খেলতে পারেনি। মাঠের পারফরম্যান্স দেখে হতাশ হতে হয়েছে সমর্থকদের। তাই পারফরম্যান্স নিয়ে কাটাছেঁড়া কম হচ্ছে না। এর মধ্যে নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে আসেন, কিন্তু একাদশে থাকেন না। আবার সোহেল রানা সিনিয়র নিয়মিত খেলেন, কিন্তু পারফরম্যান্স নেতিবাচক। এসব নিয়ে প্রশ্ন তো আছেই।
নানান বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের জার্মান-আমেরিকান কোচ থমাস ডুলি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। শুরুতে বাংলা ট্রিবিউনকে জামাল ভূঁইয়ার বিষয় নিয়ে জানালেন, ‘এই বিষয়ে আপনাকে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে!
‘তপু অধিনায়ক ছিল, হামজা অধিনায়ক ছিল, সাদ অধিনায়ক ছিল, সোহেল অধিনায়ক ছিল! এটা খুবই সাধারণ বিষয়, কিন্তু আসল বাস্তবতা কেউ দেখে না।
‘প্রেস কনফারেন্সে কে যাবে সেটা ঠিক করা আমার সিদ্ধান্ত নয়। অবশ্যই আমি অধিনায়ক নির্বাচন করি, তবে আমি শুধু তাকেই অধিনায়ক বেছে নিতে পারি যে খেলছে, তাই না? জামাল বয়স নয়, মানের কারণে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না।’
এরপর ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘দেখুন, সত্যিটা হলো কেউই অধিনায়ক হতে চাইছিল না! জামাল যদি পরের ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলে এবং আমরা হেরে যাই, তখন সবাই বলবে কীভাবে তাকে খেলতে দিল, সে তো বয়স্ক, সে তো ধীরগতির ইত্যাদি। বরং মালয়েশিয়া কেন বাংলাদেশের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক ভালো তা নিয়ে কথা বলতে চাই, যাতে মানুষ হয়তো বুঝতে পারে।’
শাকিল আহাদ তপুর ভুলে গোল হজম করতে হয়েছে। তরুণ জিদান ইউসুফ বদলি নেমে পাস মার্ক পেয়েছেন। এ নিয়ে কোচ বলেছেন, ‘তরুণ জিদানকে আমি প্রথমে চেয়েছিলাম এবং আমাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও কোচকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আর তারা বলেছিল তপু সবচেয়ে অভিজ্ঞ! মানিক, তপু আর জিদানের মধ্য থেকে আমাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি জিদানকে খেলাই এবং সে অনুশীলনের মতো একই ভুল করে! দ্বিতীয় গোলে তপু যেভাবে পাসটা হারিয়েছিল সেভাবে? এই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে নামানোর আগে আপনি দু’বার ভাববেন।
‘এখন গতকালের ম্যাচ এবং জিদানের পারফরম্যান্সের পর অবশ্যই সে শুরুর একাদশে খেলবে। আসলে মানুষ সবসময় খেলা শেষ হওয়ার পর সবকিছু ভালোভাবে বোঝে। কিন্তু ম্যাচের আগে কি বোঝে?’
ফারহান আলী ওয়াহিদ প্রসঙ্গ সামনে এনে ডুলি বলেছেন, ‘দ্বিতীয় অর্ধে আক্রমণের দিক থেকে আপনি কি তার কাছ থেকে বিশেষ কিছু দেখেছেন? দেখেছেন কতবার সে নুয়ে পড়েছিল এবং নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না? আমাকে দেখান ম্যাচে সে এমন কী দুর্দান্ত কাজ করেছে। একইভাবে আমাকে দেখান ওয়ান্ডারবয় ফারহান ম্যাচে কী এমন দুর্দান্ত করেছে? কথা না বলে, তারা কী করেছে তা করে দেখানো উচিত!’
শুকি, রাকিব ও হামজার খেলার প্রশংসা করেছেন কোচ। পাশাপাশি সিনিয়র সোহেল রানাকে নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেছেন, ‘সোহেলের ম্যাচটা বাজে গেছে। সান মারিনোর ম্যাচটার দিকে তাকান, সে খুব ভালো খেলেছিল এবং অন্য ম্যাচটিতেও ভালো খেলেছিল, সে অন্যদের চেয়ে ভালো অনুশীলন করে। হামজা ছাড়া সেই আমাদের একমাত্র ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড খেলোয়াড়, আর আক্রমণভাগে আমাদের হামজাকে প্রয়োজন।
‘হৃদয় ও জামাল একই গতিতে খেলে। সোহেলের চেয়ে শুধু হামজাই ভালো লং বল খেলে। সোহেল দুই পায়েই ভালো এবং তারও একটি বাজে দিন থাকতে পারে।
‘এমনকি সবাই তাকে অপছন্দ করলেও— যারা ফুটবল বোঝে না এবং কেবল আবেগ বা পছন্দের খেলোয়াড় দ্বারা চালিত হয়, তাদের কথা আলাদা। দক্ষতা তাদের কাছে দ্বিতীয় বিষয়।’