সিটির রায়ের প্রভাব পড়েছে মাঠে? ইংল্যান্ডের হারে বাড়ছে রহস্য

ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের রায় ঘোষণার মাত্র এক দিন পরই স্পেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেছে ইংল্যান্ড। আর ওয়েম্বলির এই হারে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের একের পর এক ভুল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মাঠের বাইরের সেই বহুল আলোচিত রায়ের প্রভাব কি এবার মাঠেও পড়েলো? 

আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অধিকাংশ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মাত্র এক দিন পরই সিটির দুই খেলোয়াড় নিকো ও'রাইলি ও মার্ক গুয়েহির দুটি ভুলের সুযোগ নিয়ে দুটি গোল পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।

এ ছাড়া সাবেক সিটি মিডফিল্ডার রদ্রি, যিনি গ্রীষ্মে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন। তিনিও স্পেনের ৩-২ গোলের জয়ে একটি পেনাল্টি উপহার দিয়েছেন।

ফুটবল পন্ডিত সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক রয় কিনসহ অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন, সিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ওপর রায়ের খবরটির কোনো প্রভাব পড়েছিল কি না।

ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের হারের পর কোচ থমাস টুখেলকেও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বিষয়টি খেলোয়াড়দের জন্য কোনো বিভ্রান্তির কারণ হয়েছিল কি না। তিনি উত্তরে বলেছেন, ‘আমার জন্য নয়। তবে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে আমি এটা কল্পনা করতে পারি। আমার চেয়ে যাদের হাতে বেশি সময় ছিল, তারা নিশ্চয়ই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।’

আইটিভি স্পোর্টকে রয় কিন অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছেন এভাবে, ‘শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে আপনি পুরোপুরি মনোযোগী থাকতে চান, আর তারা অবশ্যই এতে প্রভাবিত হয়ে থাকবে। এতজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে এতগুলো ভুল করতে দেখা, এটা নিশ্চিতভাবেই তাদের প্রভাবিত করেছে।’

ইংল্যান্ডের হয়ে ইলিয়ট অ্যান্ডারসন, মার্ক গুয়েহি ও নিকো ও'রাইলি- এই তিন সিটি খেলোয়াড় মূল একাদশে ছিলেন। আর সিটিতে সাত বছর কাটানো রদ্রিও স্পেনের একাদশে ছিলেন।

ওয়েম্বলিতে এই চারজনের মধ্যে তিনজনই গুরুত্বপূর্ণ ভুল করেন। প্রথমে নিজেদের বক্সের কিনারায় লামিনে ইয়ামালের ট্যাকলের শিকার হন গুয়েহি। সেই সুযোগে স্পেনের উইঙ্গার বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে গোল করেন এবং স্পেনকে এগিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে জুড বেলিংহামের ওপর রদ্রির দেরিতে করা ট্যাকল থেকে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। তবে পেনাল্টি নিতে গিয়ে পিছলে যাওয়া হ্যারি কেইনের শট ক্রসবারে লাগে।

এরপর নিজেদের অর্ধে ও'রাইলির একটি পাস প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের মাধ্যমে বাধাপ্রাপ্ত হয়। সেই ভুল থেকেই অ্যালেক্স বায়েনা স্পেনকে ২-২ সমতায় ফেরান।

শুক্রবার বিবিসি স্পোর্টের কাছে বিভিন্ন সূত্র জানায়, ম্যানচেস্টার সিটি তাদের বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।

চার বছর ধরে চলা তদন্তের পর ক্লাবটির বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্পনসরশিপ থেকে পাওয়া আয় বেশি করে দেখানো এবং আর্থিক নিয়ম এড়িয়ে যেতে হিসাবের বাইরে অন্যান্য অর্থ পরিশোধসহ বিস্তৃত পরিসরের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে থাকতে পারে পয়েন্ট কাটা, প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার কিংবা বড় অঙ্কের জরিমানা।

তবে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন খেলোয়াড়দের ভুলের সঙ্গে সিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো যোগসূত্রের বিষয়টি বাতিল করে দিয়েছেন। শনিবারের ম্যাচের পর আইটিভি স্পোর্টকে কেইন বলেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা যখন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলি, তখন ক্লাব ফুটবলকে একপাশে রেখে দেই। এবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না।’