আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া স্পেনের কোচ ফার্নান্দো ভ্যারেলাকে উড়িয়ে এনেছে মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেড। গতকাল মধ্য রাতে ঢাকায় এসে আজ রবিবার ক্লাব প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোচ মোহামেডানকে সব শিরোপা লড়াইয়ে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
শুরুতে কোচ বলেছেন, ‘তাদের (মোহামেডান) আরও ভালো খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে এবং শিরোপার জন্য লড়াই করতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। সমর্থকদের বলবো আমরা নতুন ও মানানসই একটি খেলার ধরণ উপহার দিতে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো, যেন আপনারা আমাদের নিয়ে যাতে গর্ব করতে পারেন। পাশাপাশি আমরা যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলতে পারি এবং সম্ভাব্য সব শিরোপার জন্য লড়াই করতে পারি।’
মোহামেডানের হয়ে বাংলাদেশে কাজ করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি আপনাকে আকর্ষণ করেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যারেলার উত্তর, ‘আমি ২০১৮ সাল থেকে ভারতে কাজ করছি। সুতরাং, ভারতে আমি আগেই আমার যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। আমার জন্য পরবর্তী ধাপ ছিল ভারতের বাইরে কোথাও যাওয়া। এ বছর সেখানে ফিরে যাওয়ারও সুযোগ আমার সামনে ছিল। কিন্তু যখন বাংলাদেশ থেকে, অর্থাৎ মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব থেকে আমার কাছে ফোন এলো, সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমার জন্য খুব সহজ ছিল। কারণ এখানকার সমর্থকদের যে আবেগ এবং ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের যে ভালোবাসা রয়েছে... তাছাড়া বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করাটা আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ একটি বিষয়।’
এই দলের জন্য আপনি কী ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন? লিগ এবং ফেডারেশন কাপের মতো দুটি টুর্নামেন্টের জন্য, নাকি অন্য কিছুর চেষ্টা করছেন? ভ্যারেলা বললেন, ‘হ্যাঁ, যেমনটা সবসময় বলি আমি ভীষণ প্রতিযোগিতাপ্রবণ। আমি চাই আমার খেলোয়াড়রাও অনুশীলনে, মাঠে এবং প্রতিটি ম্যাচে প্রতিযোগিতামুখী হোক। তাই আমার লক্ষ্য থাকে আমরা যে টুর্নামেন্টেই খেলি না কেন, সেটি জেতা। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। কথাটা বলা সহজ, তবে আমি যে ক্লাবেই দায়িত্ব নেই না কেন, শিরোপার জন্য লড়াই করাই আমার মূল প্রতিশ্রুতি থাকে।’
মোহামেডান মাত্র গত সপ্তাহে তাদের ক্যাম্প ও অনুশীলন শুরু করেছে। তাই মোহামেডানকে লিগ ও ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন করার ক্ষেত্রে কাজটা আপনার জন্য কতটা কঠিন বা চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে? ভ্যারেলা বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি একমত যে এটি আদর্শ কোনো পরিস্থিতি নয়। তবে আমি সবসময় পরবর্তী পদক্ষেপ বা ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেই। কীভাবে এখানে এসেছি সেটিতে ফোকাস না করে, কীভাবে খেলোয়াড়দের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া যায় এবং পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা যায় সেদিকে নজর দেই। আজ আমাদের মূল ফোকাস ছিল ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের ওপর, ঠিক আছে? এটাই এখন আমাদের মানসিকতা। আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোবো- এটাই আমার মূল চিন্তা।’