ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যত অনিশ্চয়তা বাড়ছে, ততই তারকা ফুটবলারদের দল ছাড়ার সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত হচ্ছে। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম আর্লিং হাল্যান্ড। সিটির বিপক্ষে চলমান আর্থিক অনিয়মের ১১৫ অভিযোগের মামলা থেকে বড় ধরনের শাস্তি এলে বদলে যেতে পারে ক্লাবটির ভবিষ্যৎ। আর সেই সুযোগে নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারকে দলে ভেড়াতে স্পেনের দুই পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা লড়াইয়ে নামতে পারে।
ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলছে। এর ফল পেতে আরও সময় লাগতে পারে। সিটির বিপক্ষে কোনও রায় গেলে ক্লাবটি তা আপিল করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে শাস্তির বিষয়টি শুধু আইনি প্রক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। মাঠের শাস্তিও বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে সিটির জন্য। পয়েন্ট কেটে নেওয়ার মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া হলে প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যেতে পারে ক্লাবটির। আর এমন পরিস্থিতিতে দলের একাধিক তারকার ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাস্তির কারণে সিটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে তাদের একাধিক খেলোয়াড়কে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে লড়াই হতে পারে। সম্ভাব্য সেই তালিকায় রয়েছেন ইওস্কো গাভারদিওল, এনজো ফার্নান্দেজ, রায়ান শেরকি ও আইয়ুব বুয়াদ্দি। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় হাল্যান্ডই।
সিটির সঙ্গে হাল্যান্ডের চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সাল পর্যন্ত। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দলটি অবনমিত হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাব ছাড়ার সুযোগ করে দেয়- এমন কোনও ধারা তার চুক্তিতে নেই। ফলে তাকে নিয়ে আলোচনায় সিটির হাত শক্ত থাকবে। শাস্তি হলেও নিজেদের তারকাদের সহজে ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতাও নেই ইংলিশ ক্লাবটির।
তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ট’-এর দাবি, বেশ কিছু দিন ধরেই রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার সঙ্গে হাল্যান্ডের নাম জড়িয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে দলে ভেড়াতে দুই ক্লাবের কেউই আনুষ্ঠানিক কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
বার্সেলোনার জন্য হাল্যান্ডকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাভাবিক সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। রাফিনহা স্ট্রাইকার কিংবা উইঙ্গার দুই ভূমিকাতেই খেলতে পারেন। এ ছাড়া আক্রমণভাগের মূল জায়গা শক্তিশালী করতে হুলিয়ান আলভারেজের প্রতিও আগে আগ্রহ দেখিয়েছিল তারা।
রিয়াল মাদ্রিদের হিসাব অবশ্য একটু জটিল। কিলিয়ান এমবাপ্পে এরই মধ্যে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন। তার সঙ্গে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহামসহ আরও একঝাঁক আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়। ফলে হাল্যান্ডকে দলে নিলে রিয়ালকে একাধিক খেলোয়াড়ের ভূমিকা ও পজিশনে পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
তবে আপাতত হাল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে চলমান পরিস্থিতির গতিপথ এবং খেলোয়াড় ও ক্লাব- দুপক্ষের ইচ্ছার ওপর। সিটির ওপর বড় কোনও শাস্তি নেমে এলে বদলে যেতে পারে পুরো ট্রান্সফার বাজারের চিত্র। আর সেই সুযোগেই আবারও রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার নজরের কেন্দ্রে চলে আসতে পারেন নরওয়ের এই গোলমেশিন!