জামালের ভাবনায় ইউরোপের লিগে খেলা ফুটবলারসহ ইন্দোনেশিয়ার দর্শকও

র‌্যাংকিংয়ে দুই দলের ব্যবধান বিশাল। বাংলাদেশের ১৮১-এর বিপরীতে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান ১১৭তম। শুধু র‌্যাংকিং নয়, প্রতিপক্ষের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই খেলেন ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে। তার ওপর জাকার্তার গ্যালারিতে থাকবে স্বাগতিক দর্শকদের চাপ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই- এই বিশ্বাস নিয়েই ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে লড়তে প্রস্তুত জামাল ভূঁইয়ারা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাকার্তার স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ফুটবল খেলাটাই এখন থমাস ডুলির দলের প্রধান লক্ষ্য।

ম্যাচের আগে অনুশীলনের ফাঁকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। আমরা দুইজন স্ট্রাইকারকে দেখেছি। মূলত বেশিরভাগ সময় আমরা ভিন্ন ভিন্নভাবে খেলি। আমাদের শক্তি ও দুর্বলতা আলাদা। তবে আমরা দর্শকদের সামলানোর চেষ্টা করব। ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী- তা জানতে চাইলে ৩৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমরা আশা করি ভালো খেলবো। আশা করি ভালো একটি ম্যাচ উপহার দিতে পারব। আমরা জিতলে জিতব, ড্র হলেও সেটি ভালো ফল হবে। আমরা সমর্থকদের ভালো একটি পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই। আমার মনে হয়, সমর্থকদের প্রতি আমাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে।’

আসিয়ান কাপে ফিলিপাইনের সঙ্গে পাকিস্তান ২-২ গোলে ড্র করেছে। আর প্রীতি ম্যাচে ভারত রুখে দিয়েছে পানামাকে। এই ফলগুলো নিয়ে অবশ্য আলাদা করে ভাবতে চান না জামাল। নিজেদের পারফরম্যান্সেই মনোযোগ রাখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

জামাল বলেন, ‘ভারত পানামার সঙ্গে ড্র করেছে, এটি খুব ভালো ফল। পাকিস্তান ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ফিরে এসেছে। আমরা জানি না কী হবে। তবে আসলে আমাদের নিজেদের ওপরই মনোযোগ দিতে হবে। অন্য দলগুলোর দিকে তাকানোর দরকার নেই। আমাদের নিজেদের দিকে মনোযোগ দিতে হবে এবং যেসব জায়গায় উন্নতি করা সম্ভব, সেগুলোতে কাজ করতে হবে।’

ইন্দোনেশিয়াকে নিয়ে অবশ্য বাংলাদেশ দল আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করতে ভিডিও সেশনও করেছে দল। জামাল জানালেন, ইন্দোনেশিয়াকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবেই দেখছেন তারা।

প্রতিপক্ষ নিয়ে জামালের কথা, ‘গতকাল আমরা ইন্দোনেশিয়াকে নিয়ে একটি ভিডিও সেশন করেছি। আমরা জানি, সম্ভবত ইন্দোনেশিয়াই এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। তাই আমরা ইন্দোনেশিয়ার শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে ভিডিও দেখেছি। তবে আজ ইন্দোনেশিয়াকে নিয়ে আমরা আরও কাজ করব। দলের জন্য কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে। আমি মনে করি, সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা উচিত নয়।’

এ পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে সাতবার। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার জয় চারটি, বাংলাদেশের জয় একটি। বাকি দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। সর্বশেষ ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছিল দুই দল। ওই ম্যাচের দলে ছিলেন জামালও।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারও লড়াইয়ের প্রত্যয় জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে চার বছর আগের সেই ম্যাচের সঙ্গে এবারের ইন্দোনেশিয়া দলের পার্থক্যও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। জামাল বলেন, ‘অবশ্যই আমরা ভালো পারফরম্যান্স দিতে চাই। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। আমরা ইন্দোনেশিয়াকে চিনি। ২০২২ সালে আমরা তাদের বিপক্ষে খেলেছিলাম, আমি তখনও দলের সঙ্গে ছিলাম। সেই ম্যাচটি ড্র হয়েছিল। কিন্তু এখন এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দল। তাদের খুবই শক্তিশালী খেলোয়াড় রয়েছে। তাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগে খেলে। তাই আমরা জানি, আমাদের জন্য ম্যাচটি খুব কঠিন হবে। তবে আমাদের অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে এবং ভালো একটি পারফরম্যান্স দিতে হবে।’