ইন্দোনেশিয়াকে ৩-০ গোলে হারাতে পারলে দারুণ হবে, কিন্তু...

ইন্দোনেশিয়াকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। শুধু জয় নয়, ৩-০ গোলের জয় হলে তো কথাই নেই। কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন ফলের নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কোচ থমাস ডুলি। বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামর্থ্য মনে করিয়ে দিয়ে ভালো পারফরম্যান্স ও নিজেদের ভুল থেকে শেখার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

আসিয়ান কাপে শক্তিশালী দল ইন্দোনেশিয়া। দুই ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট পেয়েছে স্বাগতিকরা। তাদের দলে রয়েছে এক ঝাঁক প্রবাসী ফুটবলার, যাদের পায়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কঠিন অভিজ্ঞতা। সেই দলের বিপক্ষেই এবার বাংলাদেশের লড়াই। কোচ থমাস ডুলির চোখ তিন পয়েন্টে, তবে প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে সতর্ক করতেও ভুল করেননি তিনি।

বাংলাদেশের চেয়ে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সংস্কৃতি অনেক এগিয়ে। পার্থক্যের বড় উদাহরণ ফিফা র‌্যাংকিংও। বাংলাদেশের চেয়ে ৬৪ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে আবার জাকার্তায় হাজারো দর্শকের সামনে খেলতে হবে জামাল ভূঁইয়াদের। ডুলি তাই বাস্তবতাটা সামনে রেখে বলেছেন, ‘ইন্দোনেশিয়া আর বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য হলো, ইন্দোনেশিয়ার লাখ লাখ খেলোয়াড় রয়েছে। এখন তাদের এমন খেলোয়াড়ও আছে যারা জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালির মতো দেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলছে। আমাদের বাংলাদেশে এমনটা নেই। আর এটাই বিষয়টাকে কঠিন করে তোলে। তবে ধীরে ধীরে, আশা করি বাংলাদেশেও আমরা এই সংস্কৃতি তৈরি করতে পারবো। একটি ফুটবল দেশের জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয়, যেখানে ভালো ম্যাচ, ভালো লিগ এবং দুর্দান্ত সমর্থক থাকবে।’

প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করতে গিয়ে ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘কেভিন, জার্মানির গ্ল্যাডবাখের খেলোয়াড়, সে খুবই বিপজ্জনক। আমি সবার নাম জানি না। তবে সামনের দিকে যারা আছে, বিশেষ করে ১০ নম্বর পজিশনে, তারা খুব লম্বা, শক্তিশালী এবং টেকনিক্যালি ভালো। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রাও অনেক লম্বা, শক্তিশালী এবং টেকনিক্যালি ভালো। তারা আমার চেয়েও ২০-৩০ সেন্টিমিটার লম্বা। তাদের প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত দক্ষতা ভালো। আমাদের সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

লড়াই করে ম্যাচটি জেতাই ডুলির লক্ষ্য। তবে কাজটি যে কঠিন, সেটিও স্বীকার করছেন বাংলাদেশের কোচ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ২৩ জন খেলোয়াড় আছে এবং আমরা ম্যাচটি জিততে চাই। অবশ্যই আমরা জিততে চাই। কিন্তু আমাদের লড়াই করতে হবে, ভালো পারফরম্যান্স দিতে হবে। আমরা হেরে যেতে পারি, কিন্তু পারফরম্যান্স অবশ্যই থাকতে হবে। আমরা বাংলাদেশের হয়ে খেলছি, তারা তাদের দেশের হয়ে খেলছে, এটাই লড়াই। তাই প্রত্যেক খেলোয়াড়কে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। আমাদের মালয়েশিয়ার বিপক্ষে যেভাবে খেলেছিলাম, সেভাবেই খেলতে হবে। আর সেটাই আমরা করতে মুখিয়ে আছি।’

বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা উজ্জীবিত নন-এমন প্রশ্ন উঠেছে। তবে ডুলির দাবি, আন্ডারডগ হওয়ার কারণে দলের খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণায় কোনো ঘাটতি নেই। তার সরাসরি উত্তর, ‘খেলোয়াড়রা আন্ডারডগ হওয়ার কারণে অনুপ্রাণিত নয়, এটা একেবারেই সত্য নয়। আমরা যে মিটিংগুলো করি, সেগুলো আপনারা দেখতে পারেন। আমি জানি না কে বলছে যে খেলোয়াড়রা অনুপ্রাণিত নয়। ফুটবলে মনস্তত্ত্বেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। আপনি যদি শুরুতেই বলেন, “আমরা সবাইকে হারিয়ে দেবো”, তখন প্রতিপক্ষও ভাবতে পারে, “ঠিক আছে, এবার আমরা তাদের সীমা দেখিয়ে দেবো।’’’

এরপরই ডুলি যোগ করেন, ‘বাইরে আমাদের নিয়ে অনেক মিথ্যা কথা এবং অনেক ধরনের কথা বলা হচ্ছে, আমরা কী বলেছি, কী করেছি, এসব নিয়ে। আপনারা যা শুনছেন, সবকিছু বিশ্বাস করবেন না। এটাও তেমনই একটি বিষয়। আমি মনে করি না, আমি আন্ডারডগ বলেছি বলে আমাদের কোনো খেলোয়াড় অনুপ্রাণিত নয়। আমরা আগামীকাল নিশ্চিতভাবে ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে ভালো এবং তাদের হারাবো-এটা বলবো? নাকি আমরা মিডিয়ার সামনে বলবো, “আমরা আন্ডারডগ”, এই আশায় যে তারা ভাববে আমরা ইতোমধ্যেই হাল ছেড়ে দিয়েছি, তারা ১০০ শতাংশ দিয়ে খেলবে না, আর আমরা ১০০ শতাংশ দিয়ে খেলে তাদের চমকে দিতে পারবো?’

অনুশীলনে হামজা চৌধুরী।প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, ভালো ফুটবল খেলাটাই ডুলির মূল মন্ত্র। তার ভাষায়, ‘ফুটবলে মাঝে মাঝে এমন হয় যে আপনি আর পরিস্থিতি বদলাতে পারেন না। তখনই একজন আন্ডারডগ দল ফেভারিট দলকে হারিয়ে দেয়। যেমন বায়ার্ন মিউনিখ, সাধারণত ইউরোপ বা জার্মানিতে তাদের হারানো খুব কঠিন। কিন্তু কখনো কখনো দ্বিতীয় বিভাগের কোনো দলও তাদের হারিয়ে দেয়। কেন? কারণ তারা তাদের যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে নেয় না। তাই এসব মন্তব্য আমি বিশ্বাস করতে পারি না। আমাদের ভুটানের বিপক্ষে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, পাকিস্তানের বিপক্ষে, ভারতের বিপক্ষে- যেই আসুক না কেন ভালো খেলতে হবে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তাই বাস্তবতাটা মেনে নিয়েই মাটিতে পা রাখতে চান ডুলি। তাই ৩-০ ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনার কথা উঠতেই বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘অবশ্যই, আগামীকাল যদি আমরা ইন্দোনেশিয়াকে ৩-০ গোলে হারাতে পারি, সেটা দারুণ হবে। কত ভালোই না হবে! কিন্তু সেটা হবে কি না, আপনি কি আমাকে বলতে পারেন? আমরা জানি না। কারণ তারা একটি দুর্দান্ত দল। তাদের চার-পাঁচটি গোল করার মতো সামর্থ্যও আছে। এমন দলের বিপক্ষে খেলা খুব কঠিন। তাই যা সামনে আছে, সেটার সঙ্গেই আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। আজ আমাদের এসব লড়াই করতে হবে, আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হবে এবং ম্যাচে যে ভুলগুলো করি, সেগুলো থেকে শিখতে হবে।’