যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কম বয়সে গোলের রেকর্ড বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানের

বয়স মাত্র ১৭ বছর ৫ দিন। অথচ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখে ফেললেন কাভান সুলিভান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে সবচেয়ে কম বয়সী মার্কিন আন্তর্জাতিক গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তার কীর্তির দিনে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

রবিবার অ্যারিজোনায় অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ম্যাচের ৬২ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে স্বাগতিকদের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। আগামী বছর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে এই কিশোরের।

গোলটি করে ম্যাথিস অ্যালবার্টকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। মাত্র পাঁচ দিন আগেই ১৭ বছর ৩১ দিন বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গোল করে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন অ্যালবার্ট। চিলির বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-২ ব্যবধানের জয়ে গোলটি করেছিলেন তিনি। এবার সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন সুলিভান।

প্রতিক্রিয়ায় সুলিভান বলেছেন, ‘আপনি যখন তিন, চার, পাঁচ কিংবা ছয় বছর বয়সী, তখন যে মুহূর্তগুলোর স্বপ্ন দেখেন, এটি তেমনই একটি মুহূর্ত। আমি এই মুহূর্তটি নিজের জন্য তৈরি করেছিলাম। শুধু গত কয়েক ঘণ্টা ধরে নয়, যখন জানতে পেরেছিলাম আমি একাদশে থাকছি, বরং পুরো জীবন ধরেই আমি এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছি।’

সুলিভানের ঐতিহাসিক গোলের আগে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দিয়েছিলেন আরেক কিশোর জুলিয়ান হল। ১৮ বছর বয়সী হল ম্যাচের ২৮ মিনিটে গোল করেন। মওরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর নিজের সর্বশেষ তিন ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে পচেত্তিনোর অধীনে পেরুর বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেও গোল করেছিলেন হল। এরপর চিলির বিপক্ষে জয়ের ম্যাচেও জালের দেখা পান তিনি।

ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ও নিয়ন্ত্রণে মেক্সিকো এগিয়ে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে যায়। ২৮ মিনিটে গোলটি আসে জিও রেইনার দারুণ এক আক্রমণ থেকে। অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের পাস নিয়ে মেক্সিকোর পেনাল্টি এলাকায় ঢুকে পড়েন রেইনা। এরপর মেক্সিকোর মিডফিল্ডার এরিক লিরাকে কাটিয়ে বাইলাইনে পৌঁছে যান তিনি।

রেইনার নিচু ক্রস ঠেকিয়ে দেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রেঙ্গেল। তবে বল গিয়ে পড়ে হলের সামনে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। ফিরতি বল জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন হল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো। বক্সের বাইরে থেকে রবার্তো আলভারাদোর জোরালো শট কোনোমতে উপরের দিকে ঠেলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক দিয়েগো কোচেন।

এরপরই আসে সেই মুহূর্ত, যা সুলিভানকে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দেয়।

মেক্সিকোর গোলরক্ষক রেঙ্গেল নিজের বক্সের বাইরে থেকে একটি পাস দিতে গিয়ে ভুল করেন। সেই ভুলের সুযোগ নিয়ে লং বলের পেছনে ছুটে যান সুলিভান। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দূর থেকে শান্ত মাথায় গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।

৬৮ মিনিটে মেক্সিকোর রাত আরও কঠিন হয়ে যায়। বদলি খেলোয়াড় লুইস শাভেজ যুক্তরাষ্ট্রের সেবাস্তিয়ান বেরহাল্টারের মুখে হাত দেওয়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় মেক্সিকো।

শেষ পর্যন্ত ৮৪ মিনিটে তৃতীয় গোলটিও পেয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকোর ব্যাকপাসের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল দখলে নেন মালিক টিলম্যান। এরপর দারুণ এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। তাতেই ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের।