বিদেশি কোচের বদলে দেশি কোচের ওপরই আস্থা রাখছে বসুন্ধরা কিংস। গত মৌসুমে অন্তর্বর্তী দায়িত্বে দলকে সাফল্য এনে দেওয়া বায়েজিদ আলম জোবায়ের নিপুকে এবারও প্রধান কোচের দায়িত্বে রেখেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। রাকিব হোসেন, সোহেল রানাদের নিয়ে নতুন মৌসুমেও ঘরোয়া ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লক্ষ্য তার।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে পরিচিত মুখ নিপু। বসুন্ধরা কিংসের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করা এই কোচ ২০২৬ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছেন। গত মৌসুমে তার অধীনে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দেয় কিংস।
নতুন মৌসুমে কোচিং স্টাফ নিয়েও এগিয়ে যাচ্ছেন নিপু। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘অন্য সহকারী কোচ যেমন রক্সি, জিলানী, সাহেদ, সেলিমদের নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই এবার ঘরোয়া ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে।’
নিপুর কোচিংয়ে এই নতুন দায়িত্ব অবশ্য অপ্রত্যাশিত নয়। গত ৩১ জানুয়ারি বসুন্ধরা কিংসের অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলকে সংগঠিত করার কাজ করেন তিনি। বিদেশি কোচের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় কোচিং স্টাফকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলকে সাফল্যের পথে রাখেন।
গত মৌসুমে তার অধীনে লিগের শিরোপা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফেডারেশন কাপের ফাইনালে মোহামেডানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় কিংস। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের এমন সাফল্যে নিপুর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে নিপুর সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। ক্লাবের শুরু থেকেই টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। ফলে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ক্লাবের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে তাঁর রয়েছে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। এবার প্রধান কোচ হিসেবে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশের ফুটবলে বিদেশি কোচের ওপর নির্ভরশীলতার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একটি ক্লাবের দায়িত্বে দেশি কোচের থাকা আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। তবে নতুন মৌসুমে কিংসের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলে আধিপত্য বজায় রাখতে হলে দলকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স উপহার দিতে হবে।
মৌসুমের শুরুতে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে আরামবাগের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল কিংস। তবে এরপর ফেডারেশন কাপে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ৫-০ গোলে এবং লিগে একই প্রতিপক্ষকে ৭-০ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা।
এখন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দলকে আরও এগিয়ে নেওয়াই নিপুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।