বিশ্ব ফুটবলের বাজারমূল্যের হিসাব-নিকাশে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার। ট্রান্সফারমার্কেটের সর্বশেষ মূল্যায়নে এনজো ফার্নান্দেজ, নিকো পাজ ও হুলিয়ান আলভারেজ জায়গা পেয়েছেন এই কাল্পনিক একাদশে। তবে দলটিতে নেই উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভের্দে কিংবা কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজের মতো তারকারা।
ট্রান্সফারমার্কেটের সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর এনজো ফার্নান্দেজের বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ মিলিয়ন ইউরোতে। এতে দক্ষিণ আমেরিকার খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনি উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। তার ওপরে আছেন কেবল ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যার বাজারমূল্য ১৩০ মিলিয়ন ইউরো। তবে ভিনিসিয়ুসের মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার বাজারমূল্য ছিল ২০০ মিলিয়ন ইউরো। সেখান থেকে কমেছে ৭০ মিলিয়ন ইউরো।
অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে ধারাবাহিকতার ঘাটতি থাকলেও মহাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সেন্টার ফরোয়ার্ডের জায়গা ধরে রেখেছেন হুলিয়ান আলভারেজ। তার বাজারমূল্য কিছুটা কমে এখন ১১০ মিলিয়ন ইউরো।
এই একাদশে জায়গা পাওয়া তৃতীয় আর্জেন্টাইন নিকো পাজ। ইতালির ক্লাব কোমোর হয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও নজর কেড়েছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে পাজের বাকি ৫০ শতাংশ স্বত্ব অর্জন করতে ৬০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছিল কোমো। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাবে তার বর্তমান বাজারমূল্য ৮০ মিলিয়ন ইউরো।
দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে দামি ১৫ খেলোয়াড়ের তালিকায় থাকলেও এই একাদশে জায়গা হয়নি আর্জেন্টিনার আরও দুই তারকা লাউতারো মার্টিনেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের। ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার লাউতারোর বাজারমূল্য ৮৫ মিলিয়ন ইউরো। অন্যদিকে, লিভারপুলের মিডফিল্ডার ম্যাক অ্যালিস্টারের মূল্য ৭০ মিলিয়ন ইউরো।
ভিনিসিয়ুসের পাশাপাশি একাদশে আছেন ব্রাজিলের আরও চার ফুটবলার। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজারমূল্য চেলসির ১৯ বছর বয়সী তরুণ তারকা এস্তেভাওয়ের ৮০ মিলিয়ন ইউরো। আর্সেনালের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের মূল্য ৭৫ মিলিয়ন ইউরো। এ ছাড়া রোমার রাইট-ব্যাক ওয়েসলির বাজারমূল্য ৪০ মিলিয়ন ইউরো এবং লিভারপুলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসনের মূল্য ১৫ মিলিয়ন ইউরো।
একাদশে ইকুয়েডরেরও তিন ফুটবলার রয়েছেন। তাদের মধ্যে চেলসির মিডফিল্ডার ময়েসেস কাইসেদোর বাজারমূল্য বেড়ে হয়েছে ১০০ মিলিয়ন ইউরো। এতে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের তালিকায় তার অবস্থান চতুর্থ।
পিএসজির হয়ে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা উইলিয়াম পাচো মহাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান ডিফেন্ডার। তার বাজারমূল্য ৮০ মিলিয়ন ইউরো। অন্যদিকে, আর্সেনালের লেফট-ব্যাক পিয়েরো হিনকাপিয়ের মূল্য ৫০ মিলিয়ন ইউরো।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, দক্ষিণ আমেরিকার দুই ফুটবলশক্তি উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ার কোনো খেলোয়াড়ই এই একাদশে জায়গা পাননি। অথচ মহাদেশের সবচেয়ে দামি ১৫ খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন উরুগুয়ের ফেদেরিকো ভালভের্দে ও কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ। রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার ভালভের্দের বাজারমূল্য কমে এখন ৯০ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। বায়ার্ন মিউনিখে খেলা দিয়াজের মূল্য ৭০ মিলিয়ন ইউরো।
সব মিলিয়ে ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাবে দক্ষিণ আমেরিকার এই কাল্পনিক একাদশের মোট বাজারমূল্য ৮৮০ মিলিয়ন ইউরো। যা মহাদেশটির শীর্ষ ফুটবলারদের আর্থিক মূল্যমানের বিশালতাই তুলে ধরে।