হামজা চৌধুরী নেই, শমিত সোমও থাকছেন না। তবু ভুটানের বিপক্ষে জয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলির। তার বিশ্বাস, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপার স্বপ্ন দেখতে হলে ভুটানকে হারাতেই হবে। আর সেই কাজটি করতে না পারলে বাংলাদেশে ফুটবল বন্ধ করে দেওয়াই উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় দলের এই কোচ।
আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। জাতীয় স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী দিনেই নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হামজা চৌধুরী, কানাডা প্রবাসী শমিত সোমসহ বংশোদ্ভূত কয়েকজন ফুটবলারকে ছাড়াই খেলতে হবে লাল-সবুজ দলকে। তবে এ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন বাংলাদেশ জাতীয় দলের আমেরিকান-জার্মান কোচ থমাস ডুলি।
ফিফা উইন্ডো শুরু হবে আগামী ৯ নভেম্বর। এই সময় থেকে ক্লাবগুলো জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ছাড়তে বাধ্য। এর আগে ৭ নভেম্বরের পূর্বে হামজাকে ছাড়তে বাধ্য নয় তার ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেড। ফিফা উইন্ডো শুরু হলেই কেবল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তারকাকে জাতীয় দলের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে। ফলে ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে হামজাকে পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। একই পরিস্থিতি শমিত সোমসহ অন্য প্রবাসী ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও।
তাহলে ৫ নভেম্বর হামজা-শমিতদের ছাড়া বাংলাদেশ কি ভুটানকে হারাতে পারবে? মঙ্গলবার এই প্রশ্নের জবাবে বাংলা ট্রিবিউনকে ডুলি বলেছেন, ‘অবশ্যই! (ভুটানকে হারানো) যদি তা না হয়, তবে আমাদের বাংলাদেশে ফুটবল খেলা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’
এরপর নিজেই পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বাংলাদেশের কোচ বলেন, ‘আমরা যদি সাফ জিততে চাই, তবে আমাদের ভুটানকে হারাতেই হবে তাই না?’
অতীতে ভুটানের কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। সাম্প্রতিক সময়েও দুই দলের লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একসময় যে পাহাড়বেষ্টিত ছোট দেশটিকে সহজেই হারিয়ে দিত বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে সেই ভুটান এখন নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিচ্ছে।
তবে অতীতের ফল নিয়ে পড়ে থাকতে চান না ৬৫ বছর বয়সী ডুলি। তার দৃষ্টি সামনের দিকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে আমাদের এখন তাদের হারাতেই হবে। আমাদের কি হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত? অবশ্যই না, যদি আমরা ভুটানকে ভয় পাই...।’
বাংলাদেশের কোচের মতে, প্রতিটি ম্যাচই বড় চ্যালেঞ্জ।