একসময় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ ছিলেন লোডভিক ডি ক্রুইফ। প্রায় ১০ বছর পর আবারও বাংলাদেশে ফিরেছেন তিনি। যদিও ভিন্ন ভূমিকায়। এবার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। তরুণদের নিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন ডাচ এই কোচ। ঢাকায় ফেরার পর কয়দিনের অভিজ্ঞতা, দলের সম্ভাবনা এবং দেশের ফুটবলের অগ্রগতি নিয়ে বুধবার মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তবে বর্তমান জাতীয় দল নিয়ে কিছু বলতে নারাজ ক্রুইফ।
বাংলাদেশে আবারও কাজ করতে পেরে আনন্দিত ডাচ কোচ বললেন, ‘আমি এখানে ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত। বিগত বছরগুলোতে মিস্টার তাবিথ এবং আমার প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সঙ্গে সবসময় ভালো যোগাযোগ ছিল। সেই বছরগুলোতে সঠিক সময় আসেনি, তবে এটিই হলো সঠিক সময়। তাই আমি ফিরে আসতে পেরে এবং এই ছেলেদের প্রশিক্ষণ দিতে পেরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের টুর্নামেন্টের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে পেরে আনন্দিত।’
অনূর্ধ্ব-১৭ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে ইতিবাচক ক্রুইফ। তার মূল্যায়ন, ‘ছেলেরা খুবই আগ্রহী, তারা শিখতে চায় এবং খেলার মাঠে তারা বেশ মনোযোগী। তাছাড়া অনূর্ধ্ব-১৭ বয়সীদের ক্যাটাগরিটি সিনিয়র দলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ যখন বয়স এত কম থাকে, তখন বল পায়ে কোনও বিশ্রাম থাকে না, তাই তারা সবকিছু খুব দ্রুত করতে চায়। তবে এটি প্রচুর সম্ভাবনা নিয়ে গঠিত একটি অত্যন্ত প্রতিভাবান গ্রুপ। তাই বর্তমানে আমরা যতটা কাজ করছি, তারচেয়েও বেশি সময় ধরে আমি তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ। আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, অনেক কাজ করার আছে, তবে আমি খুব ইতিবাচক।’
বাংলাদেশকে মিস করেছেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যান ক্রুইফ। বলেন, ‘অবশ্যই আমি মিস করেছি। কারণ সেই সময়টা খুব সুন্দর ছিল, বিশেষ করে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমরা কিছু অর্জন করতে পেরেছিলাম। আমরা খেলার ধরন পরিবর্তন করতে পেরেছিলাম এবং কিছু সাফল্য পেয়েছিলাম। সেটি অল্প সময়ের জন্য হলেও পরবর্তীতে আপনারা দেখেছেন যে সব খেলোয়াড় বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতায় বা লিগেও খুব ভালো করেছে। তাই আবারও ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত, সেই পুরনো যোদ্ধাদের আবার দেখতে পেয়ে, তাদের সঙ্গে ফুটবল এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে পেরে ভালো লাগছে।’
তবে বর্তমান জাতীয় দল নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি সাবেক এই কোচ। হামজা চৌধুরী, শমিত শোমসহ বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গেও তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দেন। ক্রুইফ বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না, কারণ এটা আমার কাজ নয়। আমি কেবল একজন সমর্থক। বাঙালি হিসেবে বা যারা এখানে কাজ করছেন, আমাদের জাতীয় দলকে সমর্থন করতে হবে এবং তাদের উন্নতির প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে। আমরা সম্পূর্ণ তাদের পেছনে আছি। তাই তাদের নিজেদের কাজ করতে দিন, কোচদের তাদের কাজ করতে দিন। আমরা অনূর্ধ্ব-১৭ দলে আমাদের কাজ করবো এবং আমরা কেবল তাদের সমর্থন করছি।’
অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ক্রুইফ। তবে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমার কোচদের কাছ থেকে আমি যা শুনেছি তা হলো, গত বছর তারা খুব ভালো করেছিল। আমাদের কিছু সুযোগ আছে, তবে এটি একটি কঠিন গ্রুপ, যেখানে সিরিয়া এবং বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে। ইউএই তাদের ঘরের মাঠে খেলবে, তাই এটি খুব কঠিন হবে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশ, আমরা প্রতি মিটারের জন্য লড়াই করবো, আমরা দল হিসেবে লড়ব। আমরা তাদের খুব ভালোভাবে প্রস্তুত করতে চাই এবং সেখানে আমরা কী আশা করতে পারি তা দেখতে হবে।’
বাংলাদেশ ফুটবলের অগ্রগতি চোখে পড়েছে ক্রুইফের। প্রায় একযুগ আগের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘১২ বছর আগে যখন আমি এখানে ছিলাম, তখন আমরা কিছু প্রজেক্ট শুরু করছিলাম, যার মধ্যে একটি ছিল দেশের বাইরে খেলা বাঙালি খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা, যেমন এর সেরা উদাহরণ জামাল ভূঁইয়া। আমরা তাকে দেশে নিয়ে এসেছি, এখন আরও অনেকেই আছে, তাই আপনারা ফুটবলের উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসকেও ট্রায়ালের জন্য হল্যান্ডের এফসি টুয়েন্টিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। এসব বিষয় এখানকার খেলোয়াড়দের জন্য খুব ভালো উন্নয়ন প্রকল্প। আমি ফুটবলের অগ্রগতি দেখেছি, সুযোগ-সুবিধাগুলো উন্নত হয়েছে, সবকিছুই ভালো হয়েছে, যা দেখে খুব ভালো লাগছে।’