বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরিতে লাতিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দাপট আবারও স্পষ্ট। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরির প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের সেরা ৩০টি ক্লাবের মধ্যে জায়গা পেয়েছে ব্রাজিলের পাঁচটি ক্লাব। তবে সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। দেশটির আটটি ক্লাব রয়েছে এই তালিকায়।
তালিকায় সবার ওপরে পর্তুগালের বেনফিকা। তাদের অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা ৯৩ জন ফুটবলার বিশ্বের ৪৯টি প্রথম বিভাগের লিগে খেলছেন। ক্লাবটির ট্রেনিং ইনডেক্স ১০১.৩। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনার রিভার প্লেটের পয়েন্ট ৯৭.৬। তাদের তৈরি ৯৪ জন খেলোয়াড় বিশ্লেষিত লিগগুলোতে খেলছেন। ৯৬.৭ পয়েন্ট ও ৯৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দেশটির আরেক ক্লাব বোকা জুনিয়র্স। চতুর্থ ভেলেজ সার্সফিল্ডও আর্জেন্টিনার। শীর্ষ পাঁচ পূর্ণ করেছে নেদারল্যান্ডসের আয়াক্স।
ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে পালমেইরাস। ৬৫.৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৩তম স্থানে রয়েছে তারা। ক্লাবটির অ্যাকাডেমি থেকে তৈরি ৫৯ জন ফুটবলার বিশ্লেষিত লিগগুলোতে খেলছেন। ৬৫.৫ পয়েন্ট ও ৬০ জন খেলোয়াড় নিয়ে ১৫তম স্থানে সাও পাওলো। ১৯তম স্থানে থাকা ফ্ল্যামেঙ্গোর পয়েন্ট ৬৩.১, তাদের তৈরি খেলোয়াড়ের সংখ্যা ৫৮।
৫৯.১ পয়েন্ট ও ৫৫ জন খেলোয়াড় নিয়ে তালিকার ২৮তম স্থানে ফ্লুমিনেন্স। ৫৮.৭ পয়েন্ট এবং ৫৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে ২৯তম স্থানে রয়েছে সান্তোস।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ- ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্সে খেলোয়াড় পাঠানোর ক্ষেত্রেও ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ফ্ল্যামেঙ্গো। তাদের অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা আটজন ফুটবলার ইউরোপের এই পাঁচ লিগে খেলছেন। পালমেইরাস ও সাও পাওলোর রয়েছে পাঁচজন করে খেলোয়াড়। সান্তোসের চারজন এবং ফ্লুমিনেন্সের তিনজন সেখানে খেলছেন।
কীভাবে তৈরি হয়েছে র্যাঙ্কিং?
সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরি ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় তৈরির সক্ষমতা মূল্যায়নে ‘ট্রেনিং ইনডেক্স’ ব্যবহার করেছে। এতে শুধু অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়ের সংখ্যা নয়, তাদের খেলার মান, মাঠে কাটানো সময় ও বয়সও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কোনও ক্লাবকে একজন খেলোয়াড়ের প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করতে হলে ১৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার মৌসুম থেকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত তিন বছর তাকে ওই ক্লাবে থাকতে হবে।
র্যাঙ্কিং তৈরিতে চারটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে- বিশ্লেষিত ৪৯টি লিগে বর্তমানে সক্রিয় ও ক্লাবটিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা, তাদের খেলায় প্রতিযোগিতার মান, গত এক বছরে মাঠে কাটানো মিনিট এবং খেলোয়াড়দের বয়স। বয়সের ক্ষেত্রে কম বয়সীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিআইইএসের র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের সেরা ৩০ ক্লাব
১. বেনফিকা (পর্তুগাল)
২. রিভার প্লেট (আর্জেন্টিনা)
৩. বোকা জুনিয়র্স (আর্জেন্টিনা)
৪. ভেলেজ সার্সফিল্ড (আর্জেন্টিনা)
৫. আয়াক্স (নেদারল্যান্ডস)
৬. বার্সেলোনা (স্পেন)
৭. স্পোর্টিং সিপি (পর্তুগাল)
৮. ডিফেন্সর স্পোর্টিং (উরুগুয়ে)
৯. রিয়াল মাদ্রিদ (স্পেন)
১০. রেড স্টার বেলগ্রেড (সার্বিয়া)
১১. নাসিওনাল (উরুগুয়ে)
১২. দিনামো জাগরেব (ক্রোয়েশিয়া)
১৩. পালমেইরাস (ব্রাজিল)
১৪. রোজারিও সেন্ট্রাল (আর্জেন্টিনা)
১৫. সাও পাওলো (ব্রাজিল)
১৬. সেরো পোর্তেনো (প্যারাগুয়ে)
১৭. পেনিয়ারোল (উরুগুয়ে)
১৮. আতলেতিকো নাসিওনাল (কলম্বিয়া)
১৯. ফ্ল্যামেঙ্গো (ব্রাজিল)
২০. নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ (আর্জেন্টিনা)
২১. পার্টিজান (সার্বিয়া)
২২. দিনামো কিয়েভ (ইউক্রেন)
২৩. ম্যানচেস্টার সিটি (ইংল্যান্ড)
২৪. প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (ফ্রান্স)
২৫. অ্যান্ডারলেখট (বেলজিয়াম)
২৬. সান লরেঞ্জো (আর্জেন্টিনা)
২৭. জেন্ক (বেলজিয়াম)
২৮. ফ্লুমিনেন্স (ব্রাজিল)
২৯. সান্তোস (ব্রাজিল)
৩০. আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স (আর্জেন্টিনা)।