সাফে বাফুফের কর্মকর্তা ‘প্রীতি’!

জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মিডিয়া ম্যানেজার! শুধু তা-ই নয়, সমন্বয় ও নিরাপত্তার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে আমের খানকে। বাফুফের বেতনভুক্ত মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও আমের খানকে নতুন এই দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আসিয়ান কাপ ঘিরে বিতর্কের পর ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাফুফের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রায় দুই বছর ধরে টানা আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আমের খান। তবে ফিফা আসিয়ান কাপের সময় দৃশ্যপটে হাজির হন আলোচিত-সমালোচিত আমিরুল ইসলাম বাবু। আমের খানকে সরিয়ে দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পান তিনি। আমের খানকে করা হয় সমন্বয়ক। এতে খেলার সময় মাঠে তার উপস্থিতি কিংবা কর্তৃত্ব দুটিই কমে আসে।

এবার ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আমের খানকে দেওয়া হয়েছে মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব। পাশাপাশি দলের নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখভাল করবেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের এই কর্মকর্তা।

বাফুফের নিজস্ব মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, তিনিই এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু তাকে দায়িত্বে না রেখে আমের খানকে মিডিয়া ম্যানেজার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঠে খেলা চলার সময় মিডিয়া টেন্টে এই পরিচয়ে আমের খানকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের আগেই জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্য বাফুফের বেতনভুক্ত মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বাফুফের লেটার প্যাডে বা আমাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে এ ধরনের কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা যা কিছু করি, তা জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমেই প্রক্রিয়া করে থাকি।’

নতুন দায়িত্বের বিষয়ে নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত নন আমের খান। এ নিয়ে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি। আমের খান বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না কেন আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই আমি সিদ্ধান্ত নেব।’

মিডিয়া ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সমন্বয় ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পাওয়ায় কিছুটা বিভ্রান্ত আমের খান। দায়িত্বটি বেতনভুক্ত কি না, সেটিও তার কাছে পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমরা এর আগে যে দায়িত্বেই থেকেছি, তার জন্য কখনো কোনো অর্থ নিতাম না। এটা ছিল স্বেচ্ছাসেবী ও সম্মানসূচক দায়িত্ব। জাতীয় দলের ম্যানেজারের পদটাও অবৈতনিক। এখন যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটা বৈতনিক নাকি অবৈতনিক, সেটাও বুঝতে পারছি না।’

আসিয়ান কাপেও দলের সঙ্গে ছিলেন টিম লিডার ইকবাল হোসেন, ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু ও আমের খান। এতজন কর্মকর্তা দলের সঙ্গে থাকার পরও ম্যানেজারের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় আসে দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানার নাইট ক্লাবে যাওয়ার ঘটনা। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিতর্কের পরও সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা নতুন করে সাফের দলে জায়গা পেয়েছেন। তাদের কোনো শাস্তি হয়নি বলেও আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাফে আমের খানকে একাধিক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জাতীয় দলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে এত বিতর্কের পরও বাফুফের কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্ব বণ্টন অনেকের চোখে বিশেষ প্রীতিরই প্রতিফলন বলে মনে হচ্ছে।