২৫ বছর পর ব্যালন ডি’অর জয় ইংলিশ তারকার, মেসি কত নম্বরে? 

বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে গোলবন্যা ভাসানো এক অবিশ্বাস্য মৌসুমের পর ব্যালকন ডি’অর জিতেছেন হ্যারি কেইন। এর মাধ্যমে ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলদাতা হিসেবে নিজেকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করলেন তিনি। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে গত ২৫ বছরে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ী প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হলেন ইংলিশ অধিনায়ক।

গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোল করেছেন হ্যারি কেইন। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করেই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ লীগ ও কাপের ডাবল শিরোপা জিতেছে এবং ইংল্যান্ড পৌঁছেছে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে।

২০২৬ সালের ব্যালকন ডি’অর বিজয়ী হ্যারি কেইনের হাতে এই ঐতিহাসিক সম্মাননা তুলে দেন রোনালদো। পুরস্কার গ্রহণের সময় লন্ডনের গ্যালারি গর্জে ওঠে এবং দর্শকরা কেইনের নামে স্লোগান দিতে থাকেন।

পুরস্কার হাতে আবেগপ্লুত কেইন বলেন, ‘আমি প্রায় বাকরুদ্ধ। লন্ডনে এই মঞ্চে উপস্থিত থাকা ঘটনাটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এ বছর প্রতিযোগিতাটি কতটা কঠিন ছিল, কারণ বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।’

সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার সতীর্থদের ছাড়া এটি অর্জন করা সম্ভব হতো না। আমি ভিনসেন্ট কোম্পানির শুভকামনা জানাচ্ছি, আশা করি এই অর্জন আপনাকে কিছুটা শক্তি দেবে। বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকে একজন খেলোয়াড় এবং মানুষ হিসেবে আমার অনেক উন্নতি হয়েছে। বায়ার্নের হয়ে খেলা আমার জন্য সম্মানের। ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করা সত্যিই এক বিশেষ অধিকার। বায়ার্ন মিউনিখে এই ট্রফিটি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।’

ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সতীর্থদের উদ্দেশ্যে কেইন বলেন, ‘আমাদের একটি অসাধারণ বছর কেটেছে। এটি নিখুঁত ছিল না, তবে আমরা অনেক দুর্দান্ত মুহূর্ত কাটিয়েছি। আপনাদের নেতৃত্ব দিতে পেরে সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি, এই অর্জন আমাদের সবার।’

নিজের পুরোনো ক্লাবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টটেনহ্যাম হটস্পারকে অনেক ধন্যবাদ। টটেনহ্যাম ছাড়া আজ আমি যেখানে আছি সেখানে পৌঁছাতে পারতাম না। ১১ বছর বয়স থেকে আমি সেখানে ছিলাম। সমস্ত ওঠানামা আমাকে আজকের এই মুহূর্তে নিয়ে এসেছে।’

এদিকে তালিকায় কেইনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তরুণ স্প্যানিশ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল দখল করেছেন তৃতীয় স্থান। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছেন তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি।

তালিকার ষষ্ঠ স্থানে চমক দেখিয়েছেন জর্জিয়ান উইঙ্গার খভিচা কভারাতসখেলিয়া। সপ্তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড ওসমান দেম্বেলে এবং অষ্টম স্থানে রয়েছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। এছাড়া তালিকার নবম ও দশম স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে মাইকেল অলিসে এবং ফাবিয়ান রুইজ।