‘হামজা-ফারহানের আগমনে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়বে’

ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন পূরণে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত ফুটবলাররা। প্রথম ম্যাচে ভুটানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে দল। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও জয়ের প্রত্যাশা বাংলাদেশের। এমনটাই জানিয়েছেন ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন।

শনিবার কিংস অ্যারেনায় অনুশীলনের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মোরসালিন বলেছেন, ‘আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে গত সাফ থেকে। এরপর আমরা ট্রফি জিততে পারিনি। তাই মনেপ্রাণে চেয়েছি, পরের সাফে, অর্থাৎ এবার যেভাবেই হোক ট্রফি জিততে। এটা আমার ইচ্ছা ছিল, এখনো আছে। সুযোগ পেলে নিজের জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। এবার আমাদের ট্রফি নিতেই হবে। ঘরের মাঠে খেলা, এটাই এখন আমাদের সবার লক্ষ্য।’

গত সাফে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন মোরসালিন। এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে অবশ্য মাঠে নামা হয়নি তার। তবে দলে ফেরার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ইনজুরি ছিল না, একটু জ্বর হয়েছিল। চার-পাঁচ দিন আগেই সুস্থ হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন শতভাগ ফিট। সুযোগ পেলে ভালো করার আশা করছি।’

প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও কাজে লাগাতে চান মোরসালিন। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

মোরসালিন বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার দল খুব ভালো। আমরা কোনোভাবেই তাদের হালকাভাবে নিচ্ছি না। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রথম ম্যাচ জেতায় আমাদের আত্মবিশ্বাস ভালো। সবাই ভালো অবস্থায় আছে। আশা করছি, আমরা জিতব। জেতার জন্যই পরের ম্যাচ খেলব।’

বাংলাদেশের মতো শ্রীলঙ্কার দলেও আছেন বেশ কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার। তবে এটিকে প্রবাসী বনাম প্রবাসীর লড়াই হিসেবে দেখতে চান না মোরসালিন। তার কাছে জাতীয় দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাটাই বড় বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে যারা আছে, সবাই দেশের হয়ে খেলবে। তাই তাদের সঙ্গে ওদের তুলনা করতে চাই না। ওরা ভালো দল, আমরাও বিশ্বাস করি আমাদের দল ভালো। আমরা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।’

প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে না পারা নিয়ে কোনো চাপ অনুভব করছেন না মোরসালিন। বরং তার মতে, বড় ব্যবধানে জিতলে কখনও কখনও খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মতুষ্টি চলে আসতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় বেশি গোল করলে শরীর রিল্যাক্স হয়ে যায়। আমার মনে হয়, ওই দিক থেকে ভালো হয়েছে। আমরা এখনো ক্ষুধার্ত। পরের ম্যাচে ভালো করার তাড়না সবার মধ্যে আছে।’

শ্রীলঙ্কার কোচের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোচ ফারহান আলীকে নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গও উঠেছিল। তবে সেসব কথায় কান দিতে চান না মোরসালিন। তার ভাষ্য, ‘টুর্নামেন্টের আগে অনেকেই এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইবে। আমরা বিষয়গুলো সিরিয়াসলি নিচ্ছি না। নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত আছি।’

এদিকে বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদের অপেক্ষায় দল। তাদের আগমনে দলের শক্তি ও মনোবল আরও বাড়বে বলে মনে করেন মোরসালিন। তিনি বলেন, ‘হামজা ভাই ও ফারহান আসায় আমরা খুবই আশাবাদী। আশা করছি, তাদের আসার পর দলের যে স্পিরিট আছে, সেটা আরও বাড়বে।’

দলের খেলোয়াড়দের পজিশন পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেছেন মোরসালিন। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে ফরোয়ার্ড সংকটের কারণে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে আক্রমণভাগে খেলানোর বিষয়টি সামনে আসে। তবে এতে কোনো ইগোর বিষয় দেখছেন না তিনি।

মোরসালিনের মতে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা হচ্ছে স্বীকৃত নাম্বার নাইন বা স্ট্রাইকারের অভাব। তবে কোচ যে পজিশনেই খেলান, সেখানেই নিজের সেরাটা দেওয়াই একজন খেলোয়াড়ের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আমি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডের খেলোয়াড়। কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন পজিশনে খেলেছি। কোচ যেখানে সুযোগ দেবেন, সেখানেই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। বিশ্বনাথ দাদাও চেষ্টা করেছেন। আমার মনে হয়, সবার মানসিকতা এমন হওয়া উচিত-যে যেখানে সুযোগ পাবে, সেখানেই ভালো করবে।’