রোনালদোর বিদায়ে মেসির নীরবতা জন্ম দিয়েছে আলোচনার

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বিদায় জানানোর পর শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধার বার্তায় ভাসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সতীর্থ থেকে শুরু করে সাবেক প্রতিপক্ষের অনেকেই বিদায়ী অভিনন্দন জানাচ্ছেন। কিন্তু সেই তালিকায় নেই দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি। অথচ আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় জানানোর সময় মেসির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রোনালদো। এবার পর্তুগিজ মহাতারকার বিদায়ে মেসির নীরবতা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দেন রোনালদো। এমন এক সময়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যখন কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তার বিরোধ মিটে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। ঘোষণার পর সাবেক সতীর্থ ও প্রতিপক্ষরা একের পর এক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কিন্তু সেই তালিকায় দেখা যায়নি মেসিকে।

মেসির বিদায়ের সময় রোনালদো নিজেই এগিয়ে এসেছিলেন। গত ৭ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার কয়েক ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রামে আলবিসেলেস্তেদের সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী বার্তা দেন ইন্টার মায়ামির এই তারকা। 

সেই পোস্টে রোনালদোর মন্তব্য ছিল, ‘লিও, দীর্ঘ সময় ধরে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছ। তোমার এই যাত্রা চিরকাল থেকে যাবে। আর্জেন্টিনার হয়ে যা অর্জন করেছ, তার জন্য আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা।’

মেসির প্রতি রোনালদোর এই সম্মান প্রদর্শন অবশ্য প্রথম নয়। এর আগে মেসির বাবা মারা যাওয়ার পরও সমবেদনা জানিয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা। গত ১২ আগস্ট বাবাকে হারানোর শোক জানিয়ে দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেছিলেন মেসি। তখন রোনালদো লিখেছিলেন, ‘এই কঠিন সময়ে তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য অনেক বড় একটি আলিঙ্গন, লিও। শক্ত থেকো।’

বিপরীতে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত মেসির পক্ষ থেকে একই ধরনের কোনো বার্তা আসেনি।

প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের ব্যক্তিগত পুরস্কার ও আলোচনায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন এই দুই তারকা। ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রোনালদো পাঁচবার, আর মেসির ঝুলিতে রয়েছে আটটি। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাদের দ্বৈরথ ছিল সবচেয়ে তীব্র। ওই সময় দুজন স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় খেলেছেন।

অথচ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রোনালদোর অবসর ঘোষণার পর তাকে ঘিরে শুভেচ্ছার ঢল নামে। প্রথম দিকেই প্রতিক্রিয়া জানান নেইমার ও হামেস রদ্রিগেজ। দুজনই তাকে ‘কিংবদন্তি’ বলে অভিহিত করেন।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সংক্ষিপ্ত বার্তায় লিখেছেন, ‘চিরকাল এক নম্বর।’

সাবেক সতীর্থ ও প্রতিপক্ষরাও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সার্জিও রামোস মজার ছলে তার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। রিও ফার্দিনান্দ স্মরণ করেছেন তাদের একসঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে। তিনি লিখেছেন, ‘ভাই, এটা যেন একটা সিনেমা ছিল।’

পেপে মনে করেন, ফুটবলের জন্য রোনালদোর অবদান শুধু মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়। আরেক সাবেক সতীর্থ নানি, যিনি পর্তুগাল জাতীয় দল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার সঙ্গে খেলেছেন, আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।

এছাড়া ব্রুনো ফার্নান্দেস, দিয়োগো দালোত, মার্সেলো ও থিবো কোর্তোয়াও রোনালদোকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।