পিছিয়ে পড়েও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছে বার্সেলোনা

সমীকরণ ছিল যে দল জিততো তারাই হয়ে যেতো স্প্যানিশ লা-লিগার টেবিলের এক নম্বর দল। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ নিজেদের মাঠ মেট্রোপলিতানোতে শুরুটাও করেছিল দুর্দান্ত। এগিয়ে যায় শুরুতেই। তবে সেখান থেকে অসাধারণ কামব্যাক দিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা।

রবিবারের (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার এ ম্যাচে ম্যাচে আতলেতিকো দারুণ শুরু করলেও গোলকিপার হওয়ান গার্সিয়ার দুর্দান্ত সেভে শুরুতেই গোলবঞ্চিত হন আর্জেন্টাইন তারকা আলভারেজ। এরপর কর্নার থেকে মার্ক পুবিলের শট বারে লেগে প্রতিহত হয় এবং বার্সেলোনার হয়ে পেদ্রিও গোলপোস্টে বল মারেন। ম্যাচের দশম মিনিটে আলভারেজের ক্রসে খুব কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গিওলিয়ানো সিমিওনে।

বার্সেলোনা খেলা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও আতলেতিকোর দ্রুত গতির কাউন্টার-অ্যাটাকের মুখে অরক্ষিত ছিল। পুরো ম্যাচেই বেশ কঠিন সময় পার করেন জোয়াও ক্যানসেলো। এই পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের ভুলে আলভারেজ গোল মুখে একটি শটও নেন। তবে ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন হোয়ান গার্সিয়া। অন্যদিকে মাদ্রিদের রক্ষণভাগ দীর্ঘ সময় দৃঢ় থাকলেও ইয়ামাল বেশ কয়েকবার বিপদের কারণ হয়ে ওঠেন।

প্রথমার্ধের ঠিক আগে বার্সেলোনার হয়ে সমতা ফেরান ফেরমিন লোপেজ। পেদ্রির দারুণ পাসে মাঝমাঠের লাইন ভাঙার পর পুবিলের ডিফেন্সিভ ক্লিয়ারেন্সে বল এসে পড়ে ফেরমিনের পায়ে। বাঁ পায়ে জোরালো শটে ইয়ান ওবলাককে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ১-১ করেন তিনি।

বিরতির পর আরও গোছানো ফুটবল খেলে বার্সেলোনা, যেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে রাইট-ব্যাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় ডি ইয়ংকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের একাধিক সুযোগ পান লামিনে ইয়ামাল, এবং পেদ্রির একটি শট ফিরিয়ে দেন পুবিল। আতলেতিকো কাউন্টার-অ্যাটাকের সুযোগ খুঁজতে থাকলেও আলভারেজ একটি দারুণ সুযোগ পেয়েও বল বারের ওপর দিয়ে বাইরে মেরে বসেন।

৬৬তম মিনিটে লামিনে ইয়ামালের বাড়ানো চমৎকার থ্রু-বল থেকে বল পেয়ে শান্তভাবে লক্ষ্যভেদ করেন ফেরমিন। এটি ছিল তার রাতের দ্বিতীয় গোল, যা বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করে (১-২)। পরাজয় এড়াতে এরপর ঝুঁকি নিতে শুরু করে অ্যাতলেতিকো।

ম্যাচের শেষ দিকে এরিক গার্সিয়া ও গাভিকে মাঠে নামান ফ্লিক, আর ডি ইয়ং ফিরে যান নিজের পরিচিত মাঝমাঠের পজিশনে। সমতা ফেরাতে আতলেতিকো আক্রমণ বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

মাদ্রিদে এই কঠিন লড়াইয়ে জয় তুলে নেওয়ার পর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাচ্ছে বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে তারা ৩ পয়েন্ট এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি।