আজ শুক্রবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ খেলায় জয়লাভ করে ১৪ খেলায় ৩৭ পয়েন্ট নিযে শীর্ষস্থানীয় ঊষার সমান পয়েন্ট অর্জন করলো মেরিনার্স। আর ১৪ খেলায় ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেল মোহামেডান। কাল শনিবার ঊষা-আবাহনী ম্যাচে আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে শিরোপা লড়াইয়ের চিত্র।
পাকিস্তানি মিডফিল্ডার মো. তৌফিককে প্লে-মেকার হিসেবে রেখে দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করার কৌশলে ম্যাচ শুরু করে মেরিনার্স আর কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলা খেলে মোহামেডান। শুরুতেই পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ওয়াকাস শরিফ মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদ হোসেনকে একা পেয়েও পুশ করেন তার প্যাডে। মোহামেডান তাদের ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমিকে সামনে রেখে কয়েকবার আক্রমণ শানায় তবে লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ১০ মিনিটে এগিয়ে যায় মেরিনার্স। দ্রুতগতির একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডান প্রান্ত থেকে জোরালো হিট নেন মিডফিল্ডার কামরুল ইসলাম রাব্বি। ওভার ল্যাপ করে বক্সের মাঝামাঝি চলে এসেছিলেন ডিফেন্ডার ইশতিয়াক। স্টিক আড়াআড়ি পেতে গতিপথ পরিবর্তন করে দেন তিনি। সেই বল আছড়ে পড়ে বোর্ডে।
চাপ সৃষ্টি করে পরপর দুটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় মোহামেডান। কিন্তু ওমর ভুট্টো, ইমরান হাসান পিন্টু ও মো. ইমরানের প্রচেষ্টা দেখেনি সাফল্যের মুখ। সতর্ক ছিল মেরিনার্সের ডিফেন্সও। অধিনায়ক চয়ন আবারও ছিলেন মেরিনার্সের রক্ষণ দুর্গের নেতা। এর মাঝেও ৩০ মিনিটে মো. ইমরানের পাসে নিয়েছিলেন জোরালো হিট। গোলরক্ষক কিরণ ঝাঁপিয়ে পড়ে বল রুখে দেন।
মোহামেডানের মাঝে দেখা যায়নি ম্যাচ জয়ের অদম্য স্পৃহা। তবে সেই স্পৃহা ছিল মেরিনার্সের মাঝে। আর এটিই শেষ পর্যন্ত গড়ে দেয় জয়-পরাজয়ের ব্যবধান। দ্বিতীয়ার্ধেও মেরিনার্স ক্রমাগত ঢুঁ মারতে তাকে প্রতিপক্ষ শিবিরে। ৪৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে জয়ের পথে আরও একধাপ এগিয়ে দেন ইশতিয়াক। ৫০ মিনিটে ড্র্যাগ স্পেশালিস্ট আশরাফুল ইসলাম নিশ্চিত করে দেন এ ম্যাচ মেরিনার্সের হাতছাড়া হচ্ছে না। রাব্বির পুশের পর শিশিরের স্টপে পেনাল্টি কর্নারে তৃতীয় গোলটি করেন আশরাফুল আর ৫৯ মিনিটে ওয়াকাস শরিফের একক নেপুণ্যের গোলে ৪ গোলের অগ্রগামিতা পায় মেরিনার্স।
তবে ৬৪ মিনিটে মোহামেডানের পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড তাসওয়ার আব্বাস ব্যবধান কমিয়েছিলেন কিন্তু তাতে ম্যাচের গতিপথে কোনও প্রভাব পড়েনি। একইভাবে ৬৯ মিনিটে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড মো. ইমরান পেনাল্টি কর্নার থেকে মোহামেডানের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন।
শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহামেডান।
/আরএম/এফআইআর/