ম্যাচের আগের দিন লড়াইয়ের প্রত্যয় জানিয়েছিলেন কোচ মাহবুব হারুন, অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়ন। তবে বুধবার নীল রংয়ের দৃষ্টিনন্দন টার্ফে লড়াইয়ের ছিটে-ফোঁটাও দেখা যায়নি বাংলাদেশের খেলায়। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের উজ্জ্বল ফ্লাডলাইটে শুধু নিজেদের জাল থেকে বল কুড়াতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে!
অথচ স্বাগতিকদের শুরুটা খারাপ ছিল না। প্রথম কোয়ার্টারে চয়ন-আশরাফুলদের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ঠাণ্ডা মাথায় পাকিস্তানের আক্রমণ ঠেকিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে অবশ্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। ১৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলেও পরের মিনিটেই গোলের দেখা পেয়ে যায় পাকিস্তান। পেনাল্টি কর্নারেই মিডফিল্ডার আবু মাহমুদের ফ্লিক এগিয়ে দেয় দলকে।
বাংলাদেশ অবশ্য ২২ মিনিটে সমতায় ফিরতে পারতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আশরাফুল আর নিলয়ের স্টিক ঘুরে আসা বল ধরে স্ট্রাইকিং সার্কেলে প্রবেশ করা জিমির গোলমুখের পুশে স্টিক ছোঁয়ানোর মতো কেউ ছিল না।
এরপরই শুরু পাকিস্তানের গোল-বন্যা। ৩৩ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে স্কোরলাইন ২-০ করেন শাকিল বাট। কিছুক্ষণ পর আলী শানের রিভার্স হিট থেকে কাদির আরসালানের লক্ষ্যভেদে সেটা হয়ে যায় ৩-০।
৪১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে ম্যাচের চতুর্থ গোলদাতা আবু মাহমুদ। ছয় মিনিট পর গোলরক্ষক অসীম গোপকে কাটিয়ে আলতো পুশে লক্ষ্যভেদ করেন শাকিল বাট। ৪৯ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে আবু মাহমুদের তৃতীয় গোল ৬-০তে এগিয়ে দেয় পাকিস্তানকে। শেষ বাঁশির কয়েক সেকেন্ড আগে কাদিরের দ্বিতীয় গোলে ব্যর্থতার ষোলো কলা পূর্ণ হয় বাংলাদেশের।
এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো নয়। টুর্নামেন্টে এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। ১৯৮২ সালে প্রথম আসরে বাংলাদেশ বিধ্বস্ত হয়েছিল ৯-০ গোলে। তিন বছর পর ঘরের মাঠের এশিয়া কাপে দারুণ লড়াই করে ১-০ গোলে হেরে যায় লাল-সবুজের দল। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ আবার হার মানে বিশাল ব্যবধানে, ৮-০ গোলে। এবারের ব্যবধান ৭-০। বাংলাদেশের হকির এমন বেহাল দশা আর কতদিন?