টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের সময় কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিশেষ অতিথি নাদিরা রহমতউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘হকি নিয়ে রহমতউল্লাহ অনেক চিন্তা-ভাবনা করতেন। তিনি হকির উন্নয়নে সব সময় চেষ্টা করেছেন। কতটা পেরেছেন বা কেন পারেননি, সেটা আপনারাই জানেন।’ টুর্নামেন্টে মাত্র ছয় দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তার আক্ষেপ, ‘এই টুর্নামেন্টে সবাই খেললে খুব ভালো হতো। আশা করি, ভবিষ্যতে সব দলই খেলবে। ’
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘হকির উন্নয়নে সব বিভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত ইগো দূরে সরিয়ে হকির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করতে হবে। রহমতউল্লাহর নামে এই টুর্নামেন্ট করায় আমি আন্তরিকভাবে ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। হকি ফেডারেশন কোনও কিছু চাইলে আমি সব সময় তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। রহমতের ইচ্ছে ছিল স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করার। নারায়ণগঞ্জে সেই কাজটা আমি করে যাচ্ছি।’
গত অক্টোবরে চিরবিদায় নেওয়া খাজা রহমতউল্লাহর স্মৃতিচারণ করে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক বলেছেন, ‘রহমতকে নিয়ে অনেক কথাই বলার আছে। তিনি ছিলেন একজন সৎ ও দক্ষ সংগঠক, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়। তার নামে প্রতি বছর এই টুর্নামেন্ট হবে। ভবিষ্যতে বিদেশি দল নিয়ে বড় আকারে ক্লাব কাপ হকি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’
উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে ‘এ’ গ্রুপে আবাহনী ৭-১ গোলে হারিয়েছে পুলিশ এসসিকে। বিজয়ী দলের মোহাম্মদ মহসিন ও তাহের আলী দুটি করে এবং রোমান সরকার, কৃষ্ণ কুমার ও আশরাফুল ইসলাম একটি করে গোল করেছেন। পুলিশের সান্ত্বনার গোলটি মাহফুজুর রহমানের।
পরের ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপের লড়াইয়ে মেরিনার্স ৮-০ গোলে জিতেছে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে। দুই গোল করেছেন হাসান জুবায়ের নিলয়। মামুনুর রহমান চয়ন, মইনুল ইসলাম কৌশিক, হাসান উদ্দিন, পুষ্কর খীসা মিমো, নাইম উদ্দীন ও ফরহাদ আহমেদ শিটুলের স্টিক থেকে এসেছে একটি করে গোল।