ভারতের পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় ডিপ্লোমা কোর্স করতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের সাবেক স্ট্রাইকার ও বর্তমানে বিকেএসপির কোচ মওদুদুর রহমান শুভ। কিন্তু কোর্স শেষ হলেও দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। আটকা পড়ে আছেন পাতিয়ালায়। দিল্লির দূতাবাসে আবেদন করেও মিলেনি দেশে ফেরার ছাড়পত্র। অথচ এই সময়ে দেশের ক্রিকেটের দুই আইকন সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান ফিরেছেন ভারত থেকে। তাই শুভর আক্ষেপ-হতাশাটা একটু বেশি।
গত ১৫ এপ্রিল পাটিয়ালায় প্রশিক্ষণে যোগ দেন শুভ। সতীর্থ ছিলেন মশিউর রহমান বিপ্লব। তিনি আগেই দেশে ফিরেছেন। কিন্তু ভারত থেকে দেশে ফেরার নিষেধাজ্ঞার পরই শুভ দূতাবাসে আবেদন করেন। আবেদনে জাতীয় হকি দলের সাবেক খেলোয়াড় ও বর্তমানে কোচ হিসেবে আছেন তাও উল্লেখ করেছেন তিনি। কিন্তু দূতাবাস যাদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে, তাদেরই শুধু দেশে ফেরার অনুমতি দিচ্ছে। শুভর মেয়াদ আছে আরও কয়েক মাস। যে কারণে তার দেশে ফেরার অনুমতি মিলছে না।
এদিকে নির্ধারিত সময়ে ফেরার অনুমতিপত্র না পাওয়ায় শুভ পড়েছেন বিপাকে। পাতিয়ালার মূল ট্রেনিং সেন্টার বন্ধ হয়ে গেছে। পাশেই একটি হোস্টেলে কোনোমতে আছেন। খাবারেও সমস্যা হচ্ছে বেশ।
শুভ তাই হতাশার সুরে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘সাকিব ও মোস্তাফিজের ভিসার মেয়াদ নিশ্চয়ই শেষ হয়ে যায়নি। তাহলে ওরা যদি দেশে ফিরতে পারে, তাহলে আমার বেলাতে কেন এমন হচ্ছে? আমিও তো একসময় দীর্ঘ দিন দেশকে সার্ভিস দিয়েছি। বর্তমানে বিকেএসপিতে নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে কাজ করছি। উচ্চতর প্রশিক্ষণের সবকিছুই খেলোয়াড় তৈরিতে কাজে লাগবে।’
নিষেধাজ্ঞার পর যারাই ভারত দেশে ফিরছেন, তাদের বিশেষ অনুমতি লাগছে। তাই শুভ বলেছেন, ‘আসলে কেন এমন হচ্ছে বুঝতে পারছি না। শুনেছি দেশে ফিরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমতি লাগে। সেটাও তো দূতাবাস থেকে বলছে না। বললে তো কিছু একটা করা যেত। আমি তো ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ সব নিয়ম মানতে প্রস্তুত আছি। আসলে এভাবে আর কতদিন এখানে থাকবো, বুঝতে পারছি না।’
এই অবস্থায় শুভ তার কর্মস্থল বিকেএসপিতে পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন। এখন অপেক্ষায় আছেন এতে করে যদি জটিলতা দূর হয়, দেশে ফেরার সুযোগ আসে।