হকি নিয়ে বিশদ পরিকল্পনা, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) অ্যাডহক কমিটির প্রথম সাধারণ সভা আজ তেজগাঁওয়ের বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেছেন ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। সভায় হকির উন্নয়ন ও ফেডারেশনের কার্যক্রম নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভার শুরুতেই হকির কিংবদন্তি আব্দুস সাদেকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সভায় উপস্থিত সবাই।

হকির তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে ১২টি সাব-কমিটি গঠন এবং নিয়মিত ঘরোয়া লিগ আয়োজনের ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় হকি ফেডারেশনের সভাপতি আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ফেডারেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও দিকনির্দেশনা দেন।

৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন

হকি ফেডারেশনের নির্বাচন নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘সরকার যখন আমাদের এই কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে, আমাদের ৯০ দিন সময়সীমা, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২০-২৫ দিন চলে গেছে। তাই আমাদের কমিটির মধ্য থেকেই আমরা দুজনকে দায়িত্ব দিয়েছি যে নির্বাচন কার্যক্রম যেন ৯০ দিনের মধ্যেই আমরা সুষ্ঠুভাবে করতে পারি, এটাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলছি।’

জার্মানিতে জিমি-আশরাফুলদের খেলা প্রসঙ্গে

জার্মানিতে জাতীয় হকি দলের সূচি নিয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের বুন্দেসলিগার চারটা টিমের সঙ্গে কনফার্ম হয়েছে। এছাড়া ফার্স্ট ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন সবকিছু মিলিয়ে আর কি আমাদের আগে প্ল্যান ছিল ১৮ টা। এখন আমরা এটাকে কাটছাট করে ১৪ টা বা ১৫ টা ম্যাচ আমরা খেলবো।’

ঘরোয়া হকি শিগগিরই গড়াবে

ঘরোয়া হকি নিয়েও সুসংবাদ দিয়েছেন ইশতিয়াক সাদেক, ‘আমাদের লিগ কমিটি ফর্ম হয়েছে। এবং ইমিডিয়েটলি নেক্সট টু-থ্রি ডেসের মধ্যে লিগ কমিটি একটা মিটিং দেবে। আমাদের প্রেসিডেন্ট মহোদয় আমাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যে আমরা যেন সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রথম বিভাগ লিগটা চালু করতে পারি। এবং আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ এক বছরের ক্যালেন্ডার তৈরি করে দিব। যেটাতে ন আমাদের ন্যাশনাল ইয়থ হকি, স্কুল হকি, দ্বিতীয় বিভাগ, প্রথম বিভাগ পূর্ণাঙ্গ একটা ক্যালেন্ডার থাকবে।’

টার্ফসহ ভেন্যু বাড়ছে

হকির ঐতিহ্য অনেক পুরোনো হলেও দেশে বর্তমানে মাত্র দুটি অ্যাস্ট্রোটার্ফ রয়েছে—একটি মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে এবং অন্যটি বিকেএসপিতে। তবে নতুন ভেন্যু যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘এটা খুব দুঃখের বিষয় যে এত বছর হয়ে যাওয়ার পরেও আমাদের কিন্তু অ্যাস্ট্রোটার্ফ দুটি। ঢাকায় মাত্র দুটা ভেন্যু। কিন্তু আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে এই সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে আরেকটি নতুন ভেন্যু হচ্ছে। আমি পরশুদিন ওখানে গিয়েছিলাম। ওখানে অ্যাস্ট্রোটার্ফ অলরেডি স্থাপন করা সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য যেসব কাজ, পানি নিষ্কাশন বা গ্রাউন্ড লেভেলিং, ওইসব জিনিস চলছে। তো হোপফুলি বাই সেপ্টেম্বর অক্টোবর আমাদের নতুন আরেকটা ভেন্যু হিসেবে... শুরু করতে পারবো আমরা।'

ঢাকার বাইরে হকি ছড়িয়ে যাবে

ঢাকার বাইরেও হকির অবকাঠামো বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইশতিয়াক সাদেক। তিনি বলেন, 'এর বাইরে আমার যেটা মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে দু’দফায় কথা হয়েছে। উনি খুব করে চান যে আমাদের দেশব্যাপী এখন ফাইভ-এ-সাইড হকি, যেমন ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি; ফাইভ-এ-সাইড হকি ইজ দ্য নিউ টি-টোয়েন্টি ইন হকি। তো ওভাবে উনি বলেছেন আমার যেহেতু সরকারি জেলা বিভাগগুলিতে অনেক মাঠ পড়ে আছে, সরকার থেকে আমাদেরকে টার্ফ দেবে এবং আমরা ওসব জায়গায় টার্ফ প্রতিস্থাপন করবো এবং পুরা বাংলাদেশে হকি খেলা ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ আমরা এখন শুধুমাত্র বিকেএসপি নির্ভর হয়ে গেছি। আগে একটা সময় আরমানিটোলা, ফরিদপুর, ঝালকাঠি, রাজশাহী, সব জায়গা থেকে হকি প্লেয়ার আসতো। সেই জিনিসটা আমাদের আবার করতে হবে। তৃণমূল থেকে যদি খেলোয়াড় উঠে না আসে, লংটার্ম ডেভেলপমেন্ট ইজ নট পসিবল।’