গত ১৪ জুলাই ওয়াইল্ড কার্ড না পাওয়ায় হতাশা গ্রাস করেছিল ২০১৩ সাল থেকে টানা চারবারের দ্রুততম মানব (তিনটি জাতীয় ও একটি সামার মিট) মেজবাহ আহমেদকে। তিনি বলেন, '১৪ জুলাই ওয়াইর্ল্ড কার্ড না আসায় অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এত কষ্ট করেও কি অলিম্পিকে খেলতে পারবো না? তবে সোমবার রাত সাড়ে বারোটায় শিরিনের কাছ থেকে খবরটি পাই। তখনি যেন বুকের উপর থেকে সেই কষ্টের পাথরটি নেমে গেল।'
বাগেরহাটের চিতলমারীর এই অ্যাথলেট এখন ব্রাজিলের ট্র্যাকে দৌঁড়ানোর অপেক্ষায়। ব্রাজিল খুবই প্রিয় নাম দেশসেরা এই অ্যাথলেটের কাছে। মেসবাহ বলেন, 'বিশ্বকাপ ফুটবলে আমি ব্রাজিলের সমর্থক। সেই ব্রাজিলের ট্র্যাকেই খেলতে যাবো। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। তবে এবার রিওতে আরেকটি স্বপ্ন থাকবে আমার। উসাইন বোল্টের সঙ্গে ছবি তোলা। আসলে অলিম্পিকে খেলাটা একটি স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন পূরন হচ্ছে। আমার সঙ্গে মা-বাবাও খুব খুশি।'
অলিম্পিকে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে মেসবাহ বলেন, 'আমার সেরা টাইমিং ১০.৭২ সেকেন্ড। এবার যদি ১০.৭০ সেকেন্ডও করতে পারি, তাহলেই অনেক কিছু পেয়েছি বলেই মনে করবো।'
শিরিন বলেন, ‘ব্রাজিল গিয়ে ট্র্যাকে দৌড়ানোর সুপ্ত বাসনাটা অনেক আগে থেকেই ছিল আমার মনে। তাই এটাই আমার শেষ, এমনটা ভেবেই দৌড়াবো। যদিও এক সময় আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু সোমবার রাতে যখন ঘুমাতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনি স্যার (ইব্রাহিম চেঙ্গিস) আমাকে ফোন দিয়ে খবরটা জানান। একবার মনে হচ্ছিল ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু নিজের হাতেই চিমটি কেটে দেখলাম না সত্যি।’
স্বপ্নের অলিম্পিকে সুযোগ পেয়ে নিজের পারফরম্যান্সেরও উন্নতি ঘটাতে চান শিরিন। তার কথায়, ‘গৌহাটি এসএ গেমসে আমার স্কোর ছিল ১১.৯৯ সেকেন্ড। সেটা অলিম্পিকে যদি ১১.৩৫ করতে পারি, তাহলেই ভাববো কিছু অর্জন করতে পেরেছি।'
অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিসও দারূণ খুশি। তিনি বলেন, 'অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এরপরও কোনও খবর দিতে পারছিল না বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। শেষে শনিবার রাতে আমি সরাসরি আন্তর্জাতিক অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের (আইএএএফ) যোগাযোগ করি। সভাপতি সেবাস্তিয়ান গো'র কাছে চিঠি পাঠাই। যার ফল হিসেবে এই দু’টি ওয়াইল্ড কার্ড পেলাম।'
/আরএম/এমআর/