কেন নিজেকে কিংবদন্তি ঘোষণা দিয়েছিলেন বোল্ট? তিনি তো বলবেনই, কারণ ২০০৮ ও ২০১২ সালের অলিম্পিকে ১০০, ২০০, ও ৪×১০০ মিটার রিলের স্বর্ণ পদক জিতে তিনিই হন প্রথম স্প্রিন্টার যিনি অলিম্পিক্সে নিজের জেতা তিনটি স্বর্ণ পদক অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছিলেন।
এবার রিও অলিম্পিকে নিজের সাফল্য ধারা অতিমানবীয় পর্যায়ে নেওয়ার পালা। রিওতে যদি তিনি আবারও এ তিনটি স্বর্ণপদক জিততে পারেন, তবে 'ট্রিপল ট্রিপল' এর অবিসংবাদিত রেকর্ড শোভা পাবে তার গলায় আর। তার রেকর্ড কবে ভাঙবে কিংবা আদৌ কেনওদিন ভাঙবে কিনা প্রশ্নের উত্তর জমা থাকবে কালের গর্ভে।
বর্তমানে বোল্টের যে ফর্ম তাতে তিনটি স্বর্ণপদক জেতা প্রায় নিশ্চিত। শুধু তাই নয় বোল্ট চোখ রেখেছেন আরেক নজিরবিহীন কীর্তির ওপর। যেটি হলো ২০০ মিটার স্প্রিন্টের বিশ্ব রেকর্ড ১৯ সেকেন্ডের নিচে নামিয়ে আনা!
২০০৯ সালে তিনি ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটি বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ১০০ মিটারে ৯:৫৮ ও ২০০ মিটারে ১৯:১৯ সেকেন্ড নিয়ে গড়া দুটি বিশ্ব রেকর্ডকে গত সাত বছরে হুমকির মুখে ফেলতে পারেননি কেউ। বোল্ট লন্ডন অলিম্পিকে ২০০ মিটার শেষ করেছিলেন ১৯:৩২ সেকেন্ডে।
বোল্টের ফর্মের কথায় আসা যাক, গত ১১ জুন কিংস্টনে তিনি ১০০ মিটারের শিরোপা জিতেছেন ৯:৮৮ সেকেন্ডে, যা চলতি বছরে দ্বিতীয় দ্রুততম। এ বছর এখন পর্যন্ত দ্রুততম সময় ফ্রান্সের জিমি ভিকাওটের। সেটি ৯:৮৬ সেকেন্ড। তবে এটি ছিল বাতাসের অনূকূলে দৌড়ানো। চলতি বছরে একটি ২০০ মিটার স্প্রিন্টও দৌড়াননি বোল্ট আর এ ইভেন্টে বছরের সেরা সময় বোল্টেরই টিমমেট নিকোল অ্যাশমিডের, আর সময়টি হলো ২০:০৫ সেকেন্ড।
তাহলে বোল্টের চ্যালেঞ্জার কারা? তার দুই টিমমেট ইয়োহান ব্লেক ও নিকোল অ্যাশমিড, ড্রাগ প্রতারক হিসেবে বারবার বোল্টের পেছনে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিন গ্যাটলিন ও জিমি ভিকাওটরা আছেন ১০০ ও ২০০ মিটারে বোল্টের চ্যালেঞ্জার হিসেবে। ব্লেক ও অ্যাশমিড দুজনেই ১০০ মিটারের হিটে ৯:৯৪ সেকেন্ড সময় নিয়েছেন। গ্যাটলিন গত বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বোল্টের সঙ্গে দৌড়ে ১৯:৭৪ সেকেন্ড সময় নেন। বোল্ট নিয়েছিলেন ১৯:৫৫ সেকেন্ড। তবে ১০০ মিটারে বোল্টকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিলেন গ্যাটলিন। ৯:৭৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হন বোল্ট। ৯:৮০ সেকেন্ডে দ্বিতীয় হন ২০১০ সালে ডোপ পাপী হিসেবে চার বছর বহিষ্কৃত হওয়া গ্যাটলিন। ফলাফল নিশ্চিত করতে ফটো ফিনিশের আশ্রয় নিতে হয়েছিল বিচারকদের।
বেল্টের যা কিছু অর্জন ও রেকর্ড তাতে তিনি এমনিতেই এক ও অনন্য। রিওতে ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অলিম্পিকে সেটি আরও উজ্জ্বল না হলেও অন্তত ম্লান হবে না।
/এমআর/