তার ছোট ছেলে সামিউল খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বাবা ২২ অক্টোবর করোনা পজিটিভ হন। এরপর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুই দিন পর থেকেই আইসিউতে ছিলেন। এমনিতেই তার কিডনি জটিলতা ছিল। প্রতিদিনই তার অবস্থার অবনিত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো যায়নি।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ হান্নান খান দীর্ধদিন ধরে ক্রীড়া সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজশাহী থেকে উঠে থেকে এসে দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় কাজ করেছেন। ১৯৬৮ সালে তার লেখা শুরু দৈনিক আজাদ দিয়ে। এরপর ইত্তেফাকসহ নানা পত্রিকায় লেখা চলতে থাকে। ১৯৭৮ সালে রাজশাহীর দৈনিক বার্তা দিয়ে সরাসরি ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। কাজ করেছেন দেশের নানা জাতীয় পত্রিকায়। এছাড়া দেশের প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল একুশে টেলিভিশনের ক্রীড়া বিভাগে ছিলেন অন্যতম প্রাণ হিসেবে। কিছুদিন আগেও এটিএন বাংলায় যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
হান্নান খান শুধু ক্রীড়া সাংবাদিকই ছিলেন না, একাধারে ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। মাঠের খেলাকে লেখার ভাষায় অনুবাদ করা কিংবা ছন্দবদ্ধ শব্দে মুখের ভাষায় রেডিও কিংবা টেলিভিশনের শ্রোতা-দর্শকদের দৃষ্টিগ্রাহ্য করার সার্থক রূপকার ছিলেন।
এই তো করোনা শুরুর আগেও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে প্রায়ই আপনমনে খেলা কভার করতে আসতেন। কোনও সময় সহকর্মী কারও ম্যাচের বর্ণনা লিখতে সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে বলে দিতে কার্পণ্য ছিল না হান্নান খানের।
প্রবীণ এই ক্রীড়া সাংবাদিক ছিলেন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নাল্টিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সিনিয়র সদস্য। এছাড়া ক্রীড়া সাংবাদিকতায় তার অবদান স্বরূপ বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) সম্মাননা দিয়েছিল। দুটি সংগঠনই তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া দ্বিতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক হান্নান খান। এর আগে গত মার্চে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যান দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহমুদুল হাকিম অপু।