বিরামপুর উপজেলার উত্তরভগতিপুর শাওয়ার ক্লাবের আয়োজনে উত্তরভগবতিপুর মাঠে এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। গত পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় ক্লাবের আয়োজনে এই খেলা হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খেলা দেখতে এসেছিলেন দর্শকেরা। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগিরা।
খেলায় তিন গ্রুপে মোট ১২টি ঘোড়া অংশগ্রহণ করে। বড়দের ‘ক’ গ্রুপে বিজয়ী দিনাজপুরের বাহাদুর, ‘খ’ ও ‘গ’ ছোটদের গ্রুপে গাইবান্ধার গোফফার ও ফারুক বিজয়ী হন। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে টেলিভিশন, সেলিং ফ্যান ও মোবাইল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।
ভগবতিপুর গ্রামের প্রবীণ লুৎফর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। আগে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় মেলা লাগতো, সেখানে এখন কিন্তু ওই ধরনের মেলা আর হয় না। যে কারণে এসব খেলাগুলো এখন সচরাচর আর দেখা যায় না। হঠাৎ করে এই খেলা দেখতে পেয়ে বেশ আনন্দ লাগছে।’
দিনাজপুর থেকে আসা শিউলি রানী প্রথমবার দেখলেন ঘোড়দৌড়। তার অনভূতি, ‘আসলে আগে কখনও আমি ঘোড়া খেলা দেখিনি। এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে প্রথম দেখলাম। দারুণ ইনজয় করেছি।’ তার মতো নতুন প্রজন্মের অনেকেই প্রথমবার ঘোড়দৌড় দেখে অভিভূত।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজক শাওনেওয়াজ শুভ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ঘোড়দৌড় খেলা গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। কিন্তু এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে, সেই হারিয়ে যাওয়া খেলাকে পুনরুদ্ধার করতে ও গ্রামের যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্রভাবে এই খেলাকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সরকারি সাহায্য পেলে আরও ভালোভাবে প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারবো।’