আতশবাজি-লেজার শোতে রঙিন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম

কয়েক দিন ধরেই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাহারি ঢঙে রিহার্সেল চলছিল। দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে ছিল নৃত্য প্রদর্শনী। আর সন্ধ্যা নামতেই রঙিন আলোর ঝলকানিতে ছেয়ে যেত পুরো স্টেডিয়াম। যার সবকিছুই ছিল দেশের বৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসকে সামনে রেখে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সব কিছুর মিশেলে বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে নবম এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয়ে গেলো। সন্ধ্যাজুড়ে বাহারি আয়োজনের সঙ্গে আতশবাজি ও লেজার শোতে রঙিন ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস গত বছর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা হতে পারেনি। এবার সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ৫ হাজার ৩০০ জন ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের খেলাধুলার সাফল্যগাথা সংবলিত একটি ভিডিওচিত্রে ফুটে ওঠে। এরপর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীর ওপর বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়।

এছাড়া বর্তমান সরকারের অধীনে ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্য চিত্রও ফুটে ওঠে অনুষ্ঠানে। এরপরই মার্চপাস্টে অংশ নেন ক্রীড়াবিদরা। তাদের পক্ষ থেকে শপথ নিয়েছেন দেশসেরা আর্চার রোমান সানা। আর বিচারকদের পক্ষে শপথ নেন সাবেক ক্রীড়াবিদ কামরুন নাহার হীরু। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভার্চুয়ালি অভিবাদন জানান গেমসে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদরা।

ক্রীড়াবিদদের উপস্থিতিতেই একপর্যায়ে বাংলাদেশ গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আর তার বক্তব্যের পর লাইট শো আর আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।

এর আগে গেমসের নানান দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, যুব ও ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

মাঠে এরপর দেশের দুই তারকা সিদ্দিকুর রহমান ও মাহফুজা আক্তার শিলা দুই প্রান্ত থেকে দৌড়ে এসে মশাল প্রজ্জ্বালন করেন। এ সময় গেমসের মাস্কট ‘কপোত’ মাঠ প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া শিল্পী আরিফসহ অন্যদের উপস্থিতিতে মনোরম সংগীতও পরিবেশন করা হয়েছে স্টেডিয়ামে।

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক ব্যতিক্রম উপস্থাপনায় অংশ নেন শামীম আরা নিপা, শিবলী মোহাম্মদসহ তার দল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, শাহীন সামাদসহ আরও অনেকের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার গানও মঞ্চস্থ হয় তখন। এছাড়া সাবিনা ইয়াসমিন-রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গান মোহিত করে সবাইকে। সবশেষে আতশবাজি ও লেজার শোতে স্টেডিয়ামের আকাশ হয়ে ওঠে রঙিন!