জামালকে অনুসরণ করে স্বপ্নের সিঁড়ি বানাচ্ছেন লন্ডন প্রবাসী অ্যাথলেট

প্রায় একযুগ আগে ডেনমার্ক থেকে ঢাকায় এসে দেশের ফুটবল ঝড় তুলে যাচ্ছেন জামাল ভূঁইয়া। তার দেখানো পথে ফিনল্যান্ড প্রবাসী কাজী তারিকসহ আরও অনেকেই হাঁটছেন। শুধু ফুটবলে নয়, অন্য খেলাতেও প্রবাসীদের পথচলা শুরু হয়েছে। সবশেষ অ্যাথলেটিকসে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব হয়েছে লন্ডন প্রবাসী ইমরানুর রহমানের। জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ২১ বছর আগের রেকর্ড ভেঙে হয়েছেন দ্রুততম মানব। তবে এখানেই থেমে থাকতে চাইছেন না ইমরানুর। ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব হলেও জামাল ভূঁইয়াকে ‘আইডল’ মেনে ধ্রুবতারা হয়েই থাকতে চাইছেন ২৮ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট।

সোমবার বিকালে আর্মি স্টেডিয়ামে সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন লন্ডনের শেফিল্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইমরানুর। ১০.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হারিয়েছেন চারবারের দ্রুততম মানব মোহাম্মদ ইসমাইলকে। এমন বিজয়ের পর লন্ডন প্রবাসী এখন বড় স্বপ্ন দেখছেন। চাইছেন দেশের অ্যাথলেটিকসে বড় তারকা হতে, যেখানে জামালকে চলার পথে আইডল মানছেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউনকে ইমরানুর বলেছেন, ‘শুনেছি, জামাল ভূঁইয়া ডেনমার্ক থেকে এসে এই দেশে বড় তারকা হয়েছেন। আমিও তেমনটি হতে চাই। অনুসরণ করতে চাই তাকে। আমি মনে করি তা সম্ভব। দেশের পর বিদেশের মাটিতে কিছু একটা করতে পারলে হয়তো তখন আলোচনাটাও বেশি হবে।’

দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে প্রয়াত মাহবুব আলমের পর কেউই দৌড়ে সোনার পদক জিততে পারেননি। মাঝে হার্ডলসে শুধু মাহফুজুর রহমান মিঠু সোনা জিতেছিলেন। এছাড়া অন্য কোনও গেমসেও তেমন কোনও পদক।

শুধু ১০০ মিটার নয়, ইনডোর গেমসে ৬০ মিটারেও বেশ পারদর্শী ইমরানুর। তাই আগের সব বাধা পেরিয়ে নতুন কিছু করার স্বপ্ন তার মধ্যে, ‘দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে মালদ্বীপের হাসান সাইদ ১০.৪৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনার পদক জিতেছেন। আমি মনে করি, নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে থাকলে তাকে হারানো সম্ভব। এছাড়া ইনডোর গেমসেও আমার রেকর্ড ভালো। সামনে এশিয়ান ইনডোর গেমস আছে, সেখানেও আমি ভালো করতে চাই। বাংলাদেশের জন্য কিছু একটা করতে পারলে আমার ভালোই লাগবে।’

সিলেটি বাবা আলাউর রহমান ও মা সুমি আক্তারের সন্তান ইমরানুর। ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে তার। দেশে তার সাফল্য পাওয়ার খবরে লন্ডনে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বয়ে চলেছে। ইমরানুর নিজেই বলেছেন, ‘বাবা ও মাসহ পরিবারের সবাই আমার এমন পারফরম্যান্সে খুশি। লন্ডনে বাঙালি কমিউনিটিতে খুশির ফোয়ারা ছুটেছে। আসলে দেশের জন্য কিছু করতে পারলে তখন সবার কাছেই ভালো লাগে। আর আমার রক্তে তো বাংলাদেশের সবকিছু।’

আগামী ৭ জানুয়ারি লন্ডন ফিরে যাবেন ইমরানুর। সেখানে গিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার মনস্থির করেছেন। যাওয়ার আগে দেশের অ্যাথলেটদের নিয়ে ইতিবাচক বার্তাই শুনিয়েছেন তিনি, ‘লন্ডনে গিয়ে অনুশীলনের মধ্যে থাকবো। ইনডোর গেমসে লাল-সবুজ পতাকা গায়ে চাপিয়ে অংশ নিতে চাই। পদক জিততে পারলে তো অনেক ভালো লাগবে। এছাড়া এখানে এসে দেখেছি স্থানীয়দের মধ্যে মেধাবী অ্যাথলেট আছে। তাদের দরকার সঠিক ট্রেনিং। তাহলে ওরা ভালো করতে পারবে।’

ইমরানুর দেশের রুগ্ন অ্যাথলেটিকসে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তাকে ঘিরে এখন এগিয়ে যেতে চাইছে বাংলাদেশও। ভবিষ্যতের বড় তারকা হওয়ার স্বপ্ন এঁকে পথচলা শুরু করেছেন তিনি। যে পথচলায় তার অনুপ্রেরণা ফুটবলের জামাল ভূঁইয়া!