ইউরোপে ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ খুঁজছেন বাবা

বাবা দেশের অন্যতম সেরা গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। তাই বোধ হওয়ার পর থেকে দাবার ৬৪ ঘরের ‘যুদ্ধ’ দেখে বড় হচ্ছে তাহসিন তাজওয়ার জিয়া। সেই সূত্রে বুদ্ধির খেলাটা রক্তেই মিশে আছে তার। দাবাই এখন তার ধ্যান-জ্ঞান। এই তো দিন তিনেক আগে স্বীকৃতি মিলেছে ফিদে মাস্টারের। যদিও গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার জন্য এখনও বহুদূর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে সেই পথে ছেলেকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান জিয়া। আর এজন্য ইউরোপে নিয়ে ছেলেকে করতে চাইছেন আরও ঋদ্ধ।

তাজওয়ারের বয়স এখন ১৫। জিয়া এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপের দেশগুলোতে যেতে চাইছেন ছেলেকে নিয়ে। সেখানে অন্তত দুই মাস থাকার পরিকল্পনা। এই সময়ে বিভিন্ন দেশে গিয়ে শক্তিশালী টুর্নামেন্টে ছেলেকে খেলাতে চাইছেন, যাতে তাজওয়ারের রেটিং বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মাস্টার হওয়ার নর্মও অর্জন হয়।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজে নেমে পড়তে চান জিয়া। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘তাজওয়ার ফিদে মাস্টার হয়েছে, এতে আমরা খুশি। তবে ওকে অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। আমরা চাইছি এই বছরে ইউরোপে যেতে। সেখানে ও খেলতে পারলে নর্ম হওয়ার পাশাপাশি রেটিংও বাড়বে। আরও অভিজ্ঞ হবে। আমি মনে করি, ওর মধ্যে প্রতিভা আছে। ওর কাছ থেকেও আধুনিক অনেক কিছুই শিখছি।’

দাদা পয়গাম উদ্দিন ’৮০-এর দশকে জাতীয় দাবায় খেলেছেন। মা তাসলিম সুলতানাও ছিলেন দাবাড়ু। পুরো পরিবারই দাবাপ্রেমী। তাই ছেলেকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখেন জিয়া, ‘যেকোনও বাবা-মা-ই চাইবে ছেলে ভালো কিছু করুক। আমরাও তেমনটা চাই। দাবা খেলতে খেলতে একসময় গ্র্যান্ডমাস্টার হলে তখন ভালো লাগবে। আর সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার হলে তো আরও খুশি হবো।’

তাজওয়ার এগোচ্ছেন অনেকটা ধীর-লয়ে। যেখানে ভারতের অভিমন্নু মিশ্রা মাত্র সাড়ে ১২ বছর বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছেন, সেখানে এখনও আন্তর্জাতিক মাস্টার হয়ে ওঠা হয়নি তার। এজন্য দেশের দাবায় যে বিনিয়োগ প্রয়োজন তা হচ্ছে না বলে জিয়ার উপলব্দি, ‘দেখুন অভিমন্নুর বছরব্যাপী স্পন্সর আছে এক কোটি টাকার মতো। যা আমাদের এখানে চিন্তাও করা যায় না। যদি ভারতের মতো এখানেও স্পন্সর মিলতো, তাহলে আমরা আরও আগে সাফল্য দেখতে পেতাম।’

ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন একদম নিজস্ব অর্থায়নে। জিয়া বলেছেন, ‘ছেলেকে বড় দাবাড়ু বানাতে হলে অনেক আয়োজনের বিষয় আছে। ইউরোপে যাওয়ার যে পরিকল্পনা করেছি, সেখানে নিজেদের খরচে যেতে হবে। থাকতে হবে। এখন এভাবে তো সবসময় পারবো না। অথচ ভারতের দাবাড়ুদের প্রশিক্ষণ ও খেলা নিয়ে ভাবতেই হয় না। ওদের স্পন্সর তো আছেই।’

স্পন্সর না পেলেও পিছিয়ে থাকতে চাইছেন না জিয়া। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। বাবার মতো ছেলে তাজওয়ারও স্বপ্ন বড় দাবাড়ু হওয়ার। সেন্ট জোসেফ স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এই দাবাড়ু সেটাই জানিয়েছে, ‘বাবার মতোই বড় দাবাড়ু হতে চাই। সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

দাদা-বাবা ও ছেলের এমন পরম্পরা বাংলাদেশের দাবাকে করেছে আরও রঙিন। এখন তাজওয়ার কতদূর যেতে পারবে, তা সময়ের হাতে ছেড়ে দেওয়াই ভালো!