ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল থেকে তারকাদের মিলনমেলা। খোশ-গল্প করছেন সবাই। অনেক দিন পর যে দেখা। দীর্ঘ আট বছরের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্তির দিনে সবার মাঝে আনন্দ উপচে পড়ছে। এমন উচ্ছ্বাসের দিন যে সচারচর আসে না। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি উপস্থিতিতে পুরস্কার হাতে পেয়ে সবার অবয়বে খুশির ঝিলিক।
এই যেমন সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পুরস্কার নিতে ঢাকায় এসেছেন ১৯৯৯ সাফ গেমস (বর্তমানে এসএ গেমস) জয়ী ফুটবল দলের অধিনায়ক জুয়েল রানা। পদক নিয়ে আগামী ১৫ মে আবার ফিরে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। পদক নিতে পেরে যারপরনাই জুয়েল অনেক খুশি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘অনেক দিন মাঠে খেলেছি। আজ বড় স্বীকৃতি পেয়েছি। এর জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ। আমার কাছে মনে হয়, সামগ্রিক পারফরম্যান্সের কারণে আমার হাতে পুরস্কার উঠেছে। পদক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে যাবো, ভাবতেই ভালো লাগছে।’
জুয়েলসহ ৮৫ জন ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড় পুরস্কার পেয়েছেন। তৃণমূলে অ্যাথলেটদের সংগঠক রফিকউল্লাহ মিলন তো আবেগে আপ্লুত, ‘আমি প্রচুর অ্যাথলেট তৈরি করেছি। যারা প্রচুর সোনার পদক জিতেছে। আমার কারণে অনেক অ্যাথলেটের চাকরি হয়েছে। তাদের পরিবার চলছে। এইসব ভাবতেই অনেক আনন্দ লাগে। এখন ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছি। আমার আর কিছুই পাওয়ার নেই।’
স্বাধীন বাংলা দলের ম্যানেজার তানভীর মাযহার তান্না পুরস্কার পেয়ে খুশি। লাঠি ভর করে মিলনায়তনে শুরু থেকে ছিলেন। ক্রীড়া পুরস্কার দেরিতে হলেও পেয়েছেন, তাতেই তার আনন্দ, ‘আমি স্বাধীন বাংলা দলে ছিলাম। ক্রিকেট বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক ও আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এতদিন পর কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি, তাতেই আমি আনন্দিত। কোনও অভিযোগ নেই। মন্ত্রণালয় পুরস্কার দিয়েছে। অনেক ভালো লাগছে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক জালাল ইউনুস ৪৫ বছর ধরে এই খেলাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। খেলোয়াড় থেকে সংগঠক পরিচয়টা এখন আরও বড়। সংগঠক পরিচয়ে পুরস্কার পাওয়া এই কর্মকর্তা খুশি আর ধরে রাখতে পারছেন না, ‘আমি বোঝাতে পারবো না। আলাদা ফিলিংস। আমি সত্যি অভিভূত। জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়া অন্যরকম। এই পুরস্কার আমাকে সামনের দিকে আরও কাজ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
’৯০ দশকে সুলতানা পারভীন লাভলি সাতবারের দ্রুততম মানবী। খুলনা জুট মিলে কর্মরত আছেন। ঢাকায় এসে পুরস্কার নিতে পেরে তিনি খুশি। তবে কিছুটা আক্ষেপও আছে তার, ‘আরও আগে পাওয়া উচিত ছিল এই পুরস্কার। কেন দেরিতে পেলাম তা বলতে পারবো না। এর আগে যারা পুরস্কার পেয়েছে তাদের থেকে আমার পদক বেশি আছে। তবে দেরিতে হলেও পুরস্কার পেয়েছি। বেশি ভালো লাগছে।’
সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান পুরস্কার থেকে পাওয়া ১ লাখ টাকা তার নিজের এলাকা সাতক্ষীরায় ছিন্নমূলদের মাঝে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আসলে এই আনন্দ তৈয়ব হাসান অন্যদের মাঝেও বিলিয়ে দিতে চাইছেন!