‘তেহরানের মতো সুবিধা যদি বাংলাদেশে থাকতো’

তৃতীয়বারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুশীলন করার সুযোগ হয়েছে তানভীর হোসেন তন্ময়ের। যতবারই গেছেন শুধুই মুগ্ধ হচ্ছেন। সেখানকার ভলিবলের সুবিধাদি দেখে মনের কোনে আবার আক্ষেপও ঝরে- ‘ইস... তেহরানের মতো সুবিধা যদি বাংলাদেশেও থাকতো!‘

তিন সপ্তাহের অনুশীলনের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ভলিবল দল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। সপ্তাহখানেক হলো তানভীর-রিফাতদের সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। মূলত লাল সবুজ দলের ইরানি কোচ আলিপোর আরোজি উদ্যোগে ও বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় সেখানে অনুশীলনের সুযোগ এসেছে। তবে এবারই প্রথম নয় আলিপোর আরোজি আরও কয়েকবার বাংলাদেশ দলকে সেখানে নিয়ে উন্নতমানের অনুশীলনের স্বাদ পাইয়ে দিয়েছেন। এবার অনূর্ধ্ব-২৩ দলও সেখানে উন্নত সুবিধা দেখে অবাক, অনেক কিছু শিখছেনও।

দলটির অন্যতম তরুণ সদস্য তানভীর হোসেন তেহরান থেকে মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলছেন, ‘আমি এই নিয়ে তৃতীয় বার এখানে এসেছি। বারবারই এখানকার অনুশীলনের সুবিধাদি দেখে অবাক হই। আধুনিক সুবিধাদির সবকিছুই এখানে আছে। তেহরানের যেখানে আমরা গিয়েছি অন্তত ৩০-৪০টি ভলিবলের ইনডোর স্টেডিয়ামের মতো অবকাঠামো দেখেছি। তখন ভাবি, যদি বাংলাদেশে এমন থাকতো! হয়তো একসময় হবে... এমনটাই প্রত্যাশা।’

আন্তর্জাতিক ভলিবলে ইরানের বেশ নামডাক। তাই সেখানে ভলিবলের অবকাঠামো থেকে শুরু করে সবকিছুই আধুনিক হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশে এমনটি ভাবা বেশ কঠিন।  একমাত্র ইনডোর বলতে মিরপুরেরটাই বোঝায়। তাও আবার ভাগাভাগি করে খেলতে হয়! এছাড়া গুলিস্তানে নিজস্ব একটি স্টেডিয়াম ছাড়া আর কোনও বড় অবকাঠামো নেই বললেই চলে। তারপরও সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে। 

গত  সেপ্টেম্বরে এশিয়ান অনূর্ধ্ব-২০ ভলিবলে ইরাক, কাতার ও চীনের মতো দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো পঞ্চম হয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া এশিয়ান সেন্ট্রাল জোনে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপও হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। এবার সামনের নভেম্বরে এশিয়ান সেন্ট্রাল জোনের ঢাকায় আরও একটি টুর্নামেন্ট রয়েছে। তা সামনে রেখেই তেহরানে অনুশীলন চলছে। মূলত আলিপোর আরোজি বাংলাদেশ দলের খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আধুনিক কলা-কৌশল শেখাচ্ছেন। নিজের দেশে নিয়ে অনুশীলনও করাচ্ছেন। কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি মনোযোগ ধরে রাখতে মোবাইল ফোনও দিনে এক ঘণ্টার বেশি খেলোয়াড়দের কাছে থাকছে না। তানভীর হোসেন বলেছেন, ‘ইরানি কোচ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আধুনিক সবকিছুই রপ্ত করার চেষ্টা করছি। এখানে তিন বেলা অনুশীলন হচ্ছে।  ম্যাচও খেলছি স্থানীয় শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে। এতে করে আমাদের উন্নতি হচ্ছে। আমরা যে এগিয়ে যাচ্ছি তা তো পারফরম্যান্স দেখলে পরিষ্কার। আবাসিক অনুশীলনের সময় মোবাইল ফোনও কাছে থাকে না। সারা দিনে এক ঘণ্টার মতো হাতে পাই। এতো অল্প সময়ের মধ্যেও আপনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হলো। এছাড়া এখানে ইন্টারনেট সুবিধাও ভালো নয়।'

তেহরানে অনুশীলনের পাশাপাশি অন্য দৃশ্যও দেখেছে অনেকে। সেখানে কুর্দি নারী মাহশা আমিনির মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। যদিও ভলিবল দলের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে দল বেঁধে লোকজনকে বিক্ষোভে যেতে দেখেছেন তানভীর। তার কথায়, 'আমাদের হোটেল থেকে একদিন দেখলাম অনেক গাড়ি একসঙ্গে যাচ্ছে, হইচই করে। মনে হচ্ছিল তারা বিক্ষোভ মিছিলে যাচ্ছে। এছাড়া আমাদের অনুশীলন ভেন্যু হোটেল থেকে কাছাকাছি। তাই কোনও সমস্যা হচ্ছে না।'

এই তিন সপ্তাহে বাংলাদেশ অনূর্ধ২৩ দলের অনুশীলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি ম্যাচও চলবে। অল্প সময়ে নিজেদের যতটুকু উন্নতি করা যায়, সেদিকেই এখন সবার মনোযোগ।