বাংলাদেশ থেকে তিনজন গলফার আহমেদাবাদ ওপেন গলফে খেলতে গিয়েছিলেন। দুজন দ্বিতীয় দিন কাট মিস করে দেশে ফিরে এলেও জামাল হোসেন তখনও লড়াই করে যাচ্ছিলেন। শেষ দিন একটু পিছিয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেননি। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ট্রফি উঠেছে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের খেলোয়াড়ের হাতেই। আহমেদাবাদের প্রতিযোগিতায় জিতে পেয়েছেন ১৫ লাখ টাকা।
ট্রফি প্রাপ্তির জন্য জামাল ভারতেই পাঁচটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন। সাফল্য পান আহমেদাবাদে এসে। ঈদের দিন যেখানে স্ত্রী-সন্তান পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর কথা, সেখানে গলফে শিরোপার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এনিয়ে কোনও খেদ নেই জামালের। বরং ২০১৯ সালের পর ভারতে দ্বিতীয়বার পেশাদার গলফে ট্রফি জিতে অনেক খুশি। দেশে ফিরে জামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ঈদের দিন ভারতে ট্রফি জিততে পেরেছি, এতেই অনেক আনন্দ পেয়েছি। পরিবারের সঙ্গে তখন সময় কাটাতে পারিনি। এই আক্ষেপ ঘুচিয়েছি চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেয়ে। আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে।’
ঈদের পর দিন দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে খুশির আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। জিতেই পিজিটিআই র্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে ২১ থেকে পাঁচে উঠেছেন। আর এরই অপেক্ষায় ছিলেন কিশোরগঞ্জ থেকে উঠে আসা গলফার, ‘সত্যি বললে, আমার লক্ষ্য ছিল একটি জেতা। তাই গত এক-দেড় মাসে আমি পিজিটিআইয়ের পাঁচটি টুর্নামেন্টে খেলেছি। একটি জিতে গেলে ঈদের আগেই চলে আসতাম। জিতিনি বলে আহমেদাবাদ ওপেনে খেলতে গিয়েছিলাম। তার আগের টুর্নামেন্টে আমি খুব ভালো অবস্থায় ছিলাম, কিন্তু শেষ রাউন্ডে খারাপ করেছিলাম। আহমেদাবাদে শেষ পর্যন্ত সাফল্য এসেছে।’
জামাল অ্যামেচার গলফার হিসেবে প্রথম পিজিটিআই টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতেন ২০০৮ সালে। ২০১০ সালে এসএ গেমসে খেলেন জাতীয় দলের হয়ে। এরপর পেশাদার গলফে নাম লিখিয়ে ২০১২ সালে জেতেন দ্বিতীয় শিরোপা। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরু ওপেন জেতার পর ৩৮ বছর বয়সী এই গলফারের স্বপ্ন সরাসরি এশিয়ান টুরের প্রতিযোগিতায় নাম লেখানো। যদিও এর আগে কোটা পদ্ধতিতে দেশে হওয়া এশিয়ান ট্যুরের প্রতিযোগিতায় খেলেছেন।
তবে বাছাইপর্বের গণ্ডি এখনও পেরোতে পারেননি জামাল, ‘কাট মিস করে এশিয়ান ট্যুরের বাছাইপর্ব পেরোতে পারিনি। তবে স্বপ্ন দেখি বাছাইপর্ব কিংবা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে একসময় সরাসরি সেখানকার টুর্নামেন্টগুলোতে খেলতে পারবো। সিদ্দিক ভাইয়ের মতো খেলার সুযোগ পাবো।’