‘প্রথমে রোমানই ভালো লাগার কথা বলেছিল’

দেশের আর্চারির পোস্টার গার্ল দিয়া সিদ্দিকীদের নীলফামারীর বাসায় সাজ সাজ রব। পরিবারে বড় মেয়ের বিয়ে বলে কথা। তাই বাবা-মা ও অন্যদের দারুণ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। আগামীকাল বুধবার আর্চারির পোস্টার বয় রোমান সানার সঙ্গে দিয়ার দাম্পত্য জীবন শুরু হতে যাচ্ছে। শহরের এক কমিউনিটি সেন্টারে বিয়েকে সামনে রেখে দুই পরিবারের মধ্যে আনন্দের ঝিলিক। 

খেলার সূত্রে পরিচয় থেকে ভালো লাগা। আর এখন তিন বছরের সম্পর্ক বিয়েতে গড়াচ্ছে। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে হবু বর-কনে দুজনেই দারুণ উচ্ছ্বসিত। 

বছর কয়েক আগে দিয়ার আর্চারিতে অভিষেক। তারও আগে ক্যারিয়ার শুরু করা রোমান ২০২০-এর দিকে প্রথম ভালো লাগার কথা জানিয়ে দেন দিয়াকে। তখন থেকে ভাব আদান প্রদান শুরু। নিবিড় সম্পর্ক হতে বেশি সময় লাগেনি। একসঙ্গে জুটিবেঁধে ঘরোয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পেয়েছেন। মাঝে একটু ‘মনোমালিন্য’ হলেও তাতে সম্পর্কে চিড় ধরেনি। আর এখন তো দুই পরিবারের সম্মতিতে সবাইকে জানিয়ে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলছেন রোমান-দিয়া জুটি। 

আজ (৪ জুলাই) দিয়ার গায়ে হলুদ পর্ব। নীলফামারী থেকে ব্যস্ততার মাঝে বিয়ে প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে এই আর্চার বলেছেন, ‘আমি দারুণ খুশি। অবশেষে আমরা বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

দিয়াকে প্রথমে ভালো লাগার কথা রোমানই প্রকাশ করেছিল- এমনটি জানিয়ে দিয়া ব্যস্ততার মধ্যে দিয়া কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গেলেন পেছনের দিকে, ‘২০২০ সালে সে আমাকে ভালো লাগার কথাটা জানায়। এরপর আমরা নানান সময়ে অনেক কথা বলেছি। ভাব আদান প্রদান হয়েছে। কখন যে সম্পর্কে জড়িয়ে যাই বুঝতেই পারিনি।’

ক্যারিয়ারে রোমানের সাহায্য পেয়ে আসছেন দিয়া। বিয়ের পরও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদী সদ্য এইচএসসি পাস করা আর্চার, ‘বিয়ের পরও আর্চারি খেলে যাবো। কোনও সমস্যা হবে না আশা করছি। আমরা একে অন্যকে ভালো করে চিনি-জানি। সব কিছু ঠিকঠাক চলবে। এছাড়া সে বিয়ের আগে পেছনে থেকে আমাকে নানাভাবে সাহায্য করে আসছে। বিয়ের পর নিশ্চয়ই সামনে থেকে আরও বেশি তা পাবো।’

খুলনা থেকে বরযাত্রার অংশ হয়ে রোমান যাবেন নীলফামারীতে। পরিণয় নিয়ে রোমান আগেই সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘স্বপ্নটা ছিল আমার। এখন দুজনের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে হবে। এখন আমাদের বিয়ে হতে যাচ্ছে। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন দাম্পত্য জীবন সুখের হয়। এছাড়া ক্যারিয়ারে ও আমাকে নানাভাবে সাহায্য করে আসছে। সামনেও করবে আশা করছি।’

দুই আর্চারের যুগলবন্দি হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত থাকতে সকালে নীলফামারী যাচ্ছেন জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকও। তাদের দাম্পত্য জীবনে শুভকামনা জানানোই মূল উদ্দেশ্য। তার আগে ইতিবাচক কথাই শুনিয়েছেন কোচ, ‘ওরা দুজনই ভালো আর্চার। সবাই তাদের চেনে জানে। এখন তারা বিয়ে করতে যাচ্ছে। এটা ভালো দিক। আশা করছি বিয়ের পরও তাদের খেলার পারফরম্যান্সে কোনও হেরফের হবে না।’

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে একই ডিসিপ্লিনে বর্তমান তারকা ক্রীড়াবিদদের জীবনের জুটি বাঁধার উদাহরণ কমই আছে। সেখানে রোমান-দিয়া মাঠের খেলার পাশাপাশি জীবনের জুটি গড়ে নতুন ইনিংস শুরু করার বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।