ছুটির দিনের সকালে দাবা ফেডারেশন কক্ষে খুদে দাবাড়ুদের ভিড়। যেন দাবা-উৎসব শুরু হয়েছে সেখানে! ক্ষুদে দাবাড়ুদের এমন সুযোগ করে দিয়েছে ‘আমরা ৯২’ আগামী চেস গিল্ড স্কুল রেটিং টুর্নামেন্ট। বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর।
সুইস লিগ পদ্ধতিতে একক ও দলগত দুই বিভাগে হবে সাত রাউন্ডের খেলা হবে। স্ট্যান্ডার্ড, ব্লিটজ- দুই ক্যাটাগরিতে অংশ নিচ্ছে ১৪৫ জন দাবাড়ু। এককের স্ট্যান্ডার্ড খেলাগুলো হবে দুই ভাগে- প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি ও ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি। আর ব্লিটজ দাবা হবে দলগত, যেখানে স্কুলগুলো দল হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। টুর্নামেন্টের অর্থ পুরস্কার ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া চ্যাম্পিয়নদের জন্য থাকছে ট্রফি, মেডেল ও সার্টিফিকেট।
এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে মিরপুর দুয়ারীপাড়া সোহাগ স্বপ্নধারা পাঠশালা ও মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যানের সুইচ তাহমিনা বানু বিদ্যানিকেতনের সুবিধাবঞ্চিত ৪২ জন দাবাড়ু। এছাড়া ফেনী, ময়মনিংসহ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, পাবনার স্কুলের দাবাড়ুরাও অংশ নিচ্ছে।
আজ সকালে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন দাবা ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিশনাল ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ) ডক্টর শোয়েব রিয়াজ আলম। টুর্নামেন্টের প্লাটিনাম স্পনসর আমরা ৯২ ফাউন্ডেশন, সিলভার স্পনসর পূর্বাণী গ্রুপ এবং ব্রোঞ্জ স্পনসর সেলসট্রেস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক দাবা সংগঠক ও দাবা ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মাহমুদা হক চৌধুরী মলি, মর্ণিং গ্লোরি চেস ক্লাবের সভাপতি ডাক্তার রতন কুমার পাল, আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর ডক্টর এম আর কবির।
টুর্নামেন্ট নিয়ে দারুণ আশাবাদী সমন্বক আবু সুফিয়ান শাকিল, ‘ওই টুর্নামেন্টে আশাতীত সাড়া পাই। কিন্তু ফেডারেশনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কারণে এই বছর টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছি না। বিকল্প হিসেবে তাই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা। এবার ঢাকার বাইরে থেকে যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি। আবাসনের ব্যবস্থা করলে আরও বেশি দাবাড়ু এখানে খেলতে পারতো।’
ভবিষ্যতে এই টুর্নামেন্ট বড় পরিসরে আয়োজনের ইচ্ছা শাকিলের, ‘আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টর ও আগামী চেস গিল্ডের উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তাহসিন রউফ মূলত এই টুর্নামেন্টের আয়োজক। তিনি গত দুই বছর আন্তরিকতার সঙ্গে এই টুর্নামেন্ট ও সুবিধা বঞ্চিত দাবাড়ুদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। আমরা ভবিষ্যতে বড় পরিসরে এটি করতে চাই।’
প্রথমবার এই টুর্নামেন্টে খেলতে পেরে রোমাঞ্চিত বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র প্রাঞ্জল চৌধুরী, ‘এখানে খেলতে এসে খুবই ভালো লাগছে। আমি ভবিষ্যতে গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাই।’