আফ্রিদি ও সনুর সঙ্গে কী কথা হলো বাংলাদেশের দ্রুততম মানবের?

লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমানের। এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম হয়ে গত বছরই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এবার ইমরানুরের নতুন অভিজ্ঞতা হলো। রেমিট চয়েজের আয়োজনে ম্যানচেস্টার শহরে শনিবার রাতে তারার হাট বসেছিল। বিভিন্ন দেশের চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা সেখানে হাজির ছিলেন। অসহায়দের জন্য অর্থ সংগ্রহে এমন আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনের হয়ে উপস্থিত  ছিলেন ইমরানুর। অনুষ্ঠানে পাকিস্তান থেকে সাবেক ক্রিকেট তারকা শহীদ আফ্রিদি, স্কোয়াশের জাহাঙ্গীর খান ও ভারতের অভিনেতা সনু সুদও অন্যদের মধ্যে ছিলেন। তাদের সঙ্গে খেলা ছাড়াও নানান বিষয় নিয়ে খোশ গল্পে মেতে ছিলেন ইমরানুর। 

বাংলাদেশ থেকে সাকিবের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে যেতে পারেননি। তার অনুরোধে ইমরানুর চ্যারিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। লন্ডন থেকে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন, ‘আমি সাকিব ভাইয়ের ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আছি। ম্যানচেস্টারে তারই আসার কথা ছিল। কিন্তু খেলার কারণে আসতে পারেননি। আমি তার জায়গায় অংশ নিয়েছি। নতুন এক অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের লিজেন্ডারি ক্রিকেটার আফ্রিদির সঙ্গে কথা একটু বেশি হয়েছে। বাংলাদেশের দ্রুততম মানবের সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুশি হয়েছেন আফ্রিদি। ইমরানুর নিজেই বলেছেন, ''আমার পরিচয় জেনে আফ্রিদি অনেক কথাই বললেন। আমি আফ্রিদিকে জিজ্ঞেস করেছি- ক্রিকেট মিস করেন কি না? জবাবে তিনি বলেছেন, 'জাতীয় দলের হয়ে ৩৩ বছর খেলেছি। আর কত। এখন সেভাবে  মিস করি না, আবার কিছুটা মিসও করি বলবো। তবে খেলে অনেক আনন্দ পেয়েছি, দিয়েছিও। যা সুখকর স্মৃতি হয়ে আছে।  এছাড়া আমি ক্রিকেট পুরোপুরি ছাড়িনি। সুযোগ পেলেই খেলি। অবসর সময়টা আসলে উপভোগ করছি।'

বাংলাদেশের বিপিএলে একসময় খেলেছেন এই সাবেক অলরাউন্ডার। সামনের দিকে এই লিগে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে কিনা? ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অবসর নেওয়া আফ্রিদি তা নিয়ে বলেছেন, 'এখন তো আর খেলার সুযোগ নেই। তবে সামনের দিকে কী হয় জানি না। তোমাদের ওখানে বিপিএল অনেক জনপ্রিয়। পাকিস্তানের  খেলোয়াড়রা খেলছে।‘

ম্যানচেস্টারে ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ এই চ্যারিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। সোনু ও জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের অ্যাথলেট ইমরানুরের সঙ্গে আলাপ করে খুশি হয়েছেন। বাংলাদেশের খেলাধুলার খবর নিয়েছেন। ইমরানুরও ভারতের সিনেমা ও পাকিস্তানের খেলা নিয়ে নানান আলোচনায় মেতে ছিলেন। যেমন সনুকে ভারতের সিনেমা ভালো লাগার কথা জানাতে ভুল করেননি তিনি।

এমন ঝলমলে রাতে তারাদের মাঝে থেকে ইমরানুর দারুণ উচ্ছ্বসিত। সেই সঙ্গে সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসহায় মানুষ জনের জন্য কাজ করতে পেরে অন্যরকম ভালো লাগাও কাজ করছে। বলতে গেলে এখনও ঘোরের মধ্যে আছেন।