যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার দশ দিনের মধ্যেই আজ মঙ্গলবার থেকে ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে নয়টি ফেডারেশন ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থা আমন্ত্রিত ছিল। ফেডারেশনগুলো তাদের সংকট, সম্ভাবনা ও বর্তমান পরিস্থিতি নতুন মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন।
প্রায় ঘণ্টা দেড়েক আলোচনার পর ক্রীড়ামন্ত্রী বলেছেন, ‘ফেডারেশনগুলোর যে চাহিদা, সেটা পূরণ করা সম্ভব। আর্থিক যে সাহায্য প্রয়োজন মনে করেছিলাম, এর তুলনায় অনেক কমই তারা বলেছে। সেটা পূরণ করা সম্ভব। দুটি ফেডারেশন (শুটিং ও আর্চারি) কমপ্লেক্সের কথা বলেছে। সেগুলোও আলোচনাধীন। বিসিবি শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম করছে। সেখানে কয়েকটি ফেডারেশন যাবে।’
বাস্কেটবলের কোর্ট নেই অনেক দিন হলো, নেই অফিসও। এ নিয়ে পাপন বলেছেন, ‘বাস্কেটবলের সমস্যা ছিল। সেটা সমাধানের পথে। আবাহনী কমপ্লেক্সে তাদের কোর্ট থাকবে। ফেডারেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য করেই ক্লাব ব্যবহার করবে।’
ক্রিকেট বোর্ড জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য নেয় না। এছাড়া বাকি সব ফেডারেশনই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুদান নিয়ে চলে। পাপন তাই বলেছেন, ‘আমি আসলে আর্থিক বিষয়টি কম বলছি ক্রিকেটের সঙ্গে তুলনা করে। তাই বলে একেবারে কমও নয়। বর্তমান বাজেটে হয়তো এগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আগামী বাজেটে অবশ্যই এগুলো সংস্থান করার চেষ্টা করবো।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১৩০০ কোটি টাকার মতো। সরকারিভাবে নাহলে বেসরকারিভাবে সাহায্যের আশ্বাস পাপনের, ‘সরকারি বাজেটের মাধ্যমে সব কিছু সংস্থান না হলে বাইরের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে সেগুলো পূরণ করবো। তাদের যে চাহিদাগুলো, সেগুলো পূরণ হওয়ার মতো।’
সহায়তা প্রদান করে এর সঠিক নজরদারিও করবেন। তাই প্রথম সভার পরই খানিকটা হুশিয়ারিও দিয়েছেন, ‘অবশ্যই কড়ায়গণ্ডায় হিসাব নিবো। যাদের সহযোগিতা করা হবে তাদের মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হবে।’
আজ অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, ক্যারম, বাস্কেটবল, ভারোত্তোলন, শুটিং, আর্চারি ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থা নতুন মন্ত্রীর সঙ্গে মত বিনিময় করেছে। সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ প্রথম বৈঠক শেষে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘আমরা সাঁতারের সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছি। মন্ত্রী মহোদয় বেশ গুরুত্ব সহকারেই নিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি আমাদের সঙ্গে আবার বসবেন। আশা করি সাঁতারে পরিবর্তন আসবে।’
ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ক্রীড়াঙ্গনের প্রবীণ সংগঠক। তিনি মনে করেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন অনেক বড় আকারের। ক্রীড়াঙ্গনে অর্থ কোনও সমস্যা নয়, প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা। নতুন মন্ত্রীর কথায় আমরা আশাবাদী।’
আজকের মত বিনিময়ে অবশ্য কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আবার সামনে অনেকের সঙ্গেই আলাদাভাবে বসবেন পাপন। আগামীকাল দেশের অন্যতম শীর্ষ ফেডারেশন ফুটবল ও হকির সঙ্গে মত বিনিময় করবেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী।